আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত তাদের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা করছে।
ভারতের সবচেয়ে বড় বেসরকারি রুশ তেল ক্রেতা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড হয়তো রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দেবে বা পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। সরকারি শোধন সংস্থাগুলো নিয়ম মেনে চলার জন্য তাদের কেনার পরিকল্পনা খতিয়ে দেখছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমেরিকা এবং তার বন্ধুরা রাশিয়ার বড় তেল সংস্থা রোজনেফট এবং লুকোইল এর ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও তাদের ওপর ব্যবস্থা নিয়েছে।ভারতের রুশ তেল আমদানি পর্যালোচনার খবরে বৃহস্পতিবার অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩% লাফিয়ে উঠেছে।
ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্স ব্যারেল প্রতি ১.৯৪ ডলার বা ৩.১% বেড়ে ৬৪.৫৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড ১.৮৯ ডলার বা ৩.২% বেড়ে ৬০.৩৯ ডলারে পৌঁছেছে।
বিশ্লেষকরা বলেছেন যে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং রুশ রপ্তানি হ্রাসের ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে ব্যাঘাত ঘটতে পারে—এই আশঙ্কাই দাম বাড়ার প্রধান কারণ। ব্যবসায়ীরা ভয় পাচ্ছেন যে এই কড়া নিষেধাজ্ঞার কারণে বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহতে সমস্যা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত যদি আমেরিকার চাপে রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দেয়, তবে ভারত হয়তো এখন মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকার অন্যান্য দেশ থেকে তেল কেনার দিকে ঝুঁকবে। এর ফলে মার্কিন তেলের চাহিদাও বাড়তে পারে।
তবে, কিছু বিশ্লেষক মনে করেন যে তেলের দামের এই বৃদ্ধি হয়তো শুধু তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া। তারা বলছেন, রাশিয়ার ওপর অতীতের নিষেধাজ্ঞাগুলো তাদের তেলের উৎপাদন বা আয়কে খুব বেশি কমাতে পারেনি। চীন এবং ভারতের মতো কিছু ক্রেতা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রুশ তেল কেনা চালিয়ে যাচ্ছিল।এখন ব্যবসায়ীরা তিনটি প্রধান বিষয়ের দিকে নজর রাখছেন: ওপেক+ দেশগুলি কতটা তেল উৎপাদন করছে, চীন কতটা তেল মজুত করছে এবং ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের পরিস্থিতি কেমন হয়।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি