জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবনে ঝুঁকি নিয়ে চলছে চিকিৎসা কার্যক্রম। এছাড়া শয্যার তুলনায় প্রায় তিনগুণ রোগীর চাপে হিমশিম চিকিৎক ও নার্সরা। জামালপুরের সাত উপজেলার ২৬ লাখ ও পার্শ্ববর্তী কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী, রাজিবপুর এবং টাঙ্গাইল জেলার ধনবাড়ী, মধুপুর উপজেলার স্বাস্থ্যসেবার মানুষের একমাত্র ভরসার জায়গা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল।
এদিকে প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে চলছে নতুন ভবনের নির্মাণ কাজ। কাজ শেষ না হওয়ায় ১৯৬১ সালে নির্মিত জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ভবনে চলছে বহির্বিভাগের চিকিৎসা কার্যক্রম। যে ভবনটিকে গণপূর্ত বিভাগ ২০২১ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা করেছে। কিন্তু রোগীর চাপ সামলাতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েই জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত ভবনে স্বাস্থ্য সেবা পরিচালনা করছেন। যে কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন রোগী ও স্বজনরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই হাসপাতালে ৭৩টি চিকিৎসকের পদের বিপরীতে এখানে কর্মরত আছেন ৪৮ জন চিকিৎসক। ২৫০ শয্যার ব্যবস্থা থাকলেও এখানে হাজারের বেশি রোগী ভর্তি হয়ে থাকেন। যা শয্যার তুলনায় সাড়ে তিনগুণ। যে কারণে বারান্দা আর মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হয় রোগীদের।
এছাড়া মেডিসিন ওয়ার্ডের রোগী সবচেয়ে বেশি থাকায় এখানকার দুর্ভোগও সবচেয়ে বেশি। ওই ওয়ার্ডে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি থাকেন। ফলে বারান্দা ও মেঝেতে বিছানা করে গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন রোগীরা। এছাড়াও শিশু ওয়ার্ডে এক শয্যা তিনজন পর্যন্ত রোগীকে ভাগ করে থাকতে হয়।
মেডিসিন ওয়ার্ডের মাজেদুর রহমান নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, চারদিন আগে হাসপাতালে রোগী ভর্তি করেছি। চার দিনে সিট পাইনি। বারান্দায় বিছানা করে রাখতে হচ্ছে।
শিশু ওয়ার্ডে থাকা আকলিমা নামে এক মা বলেন, ‘এক সিটে দুই থেকে তিনজনকে রেখে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। মেঝেতে বিছানা করে শিশুদের চিকিৎসা করাচ্ছেন।
বহির্বিভাগের চিকিৎসা নিতে আসা আলেয়া বেগম বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টার দিকে লাইন ধরেছি। এখন বেলা ১১ টা, কিন্তু ডাক্তারের দেখা পাইনি। কোন সময় ডাক্তারের দেখা মিলবে সেটাও বলা যাচ্ছে না।
হাসপাতালের নার্সরা জানান, ‘হাসপাতালে প্রতিদিন রোগী বেড়েই চলছে। পর্যাপ্ত জায়গা ও জনবল থাকলে আরও ভালো চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব। ’
বহির্বিভাগের চিকিৎসক ডা. শারমিনা আক্তার বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভবনের বিভিন্ন জায়গার ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। রোগী ও চিকিৎসক সবাই আতঙ্কে থাকেন।’
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মাহফুজুর রহমান সোহান বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সংকট হলো রোগীদের আবাসন সমস্যা। নতুন বহির্বিভাগ ভবন নির্মাণের জন্য আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। জনবল সংকট, আবাসন সমস্যার সমাধান আর ভবন নির্মাণ কাজ শেষ হলে উন্নত সেবা পাবেন এ অঞ্চলের অন্তত অর্ধকোটি মানুষ ।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন