রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক : ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ খারকিভের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর কুপিয়ানস্ক অবশেষে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। রাশিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় সামরিক শাখার শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল সের্গেই কুজোভলেভ বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এ তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তিনি পুতিনকে বলেন, রুশ সেনারা শহরটি মুক্ত করেছে এবং এলাকাটি আর ইউক্রেনীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেই।
কুপিয়ানস্ক ছিল ইউক্রেনের পূর্ব ফ্রন্টে একটি প্রধান সামরিক ঘাঁটি ও প্রতিরক্ষার মূল কেন্দ্র। বহুদিন ধরে তীব্র সংঘর্ষের পর এই শহরের পতন ইউক্রেনের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কুপিয়ানস্ক দখলের খবরটি প্রকাশ্যে আসে এমন এক সময়, যখন ইউক্রেন আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাব পেয়েছে। ইউক্রেন সরকারের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এএফপিকে জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত খসড়ায় যে শর্ত উল্লেখ আছে, তা রাশিয়ার দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসা অবস্থানের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। বিশেষ করে দখলকৃত অঞ্চলগুলোকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে মেনে নেওয়া।
ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতের বর্তমান পরিস্থিতি বোঝার জন্য বিষয়টির পেছনের ইতিহাসও গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৪ সালে রাশিয়া ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নিজেদের মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করে। এরপর ২০১৫ সালের মিনস্ক চুক্তিতে ইউক্রেন ক্রিমিয়াকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে কার্যত মেনে নিতে সম্মত হয়। যদিও পরে দেশটি ন্যাটো সদস্যপদ পাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা বাড়ালে দুই দেশের সম্পর্ক আবার উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অবশেষে ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে। প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে রাশিয়া ইতোমধ্যেই দনেৎস্ক, লুহানস্ক, ঝাপোরিজ্জিয়া ও খেরসন এই চারটি প্রদেশকে নিজেদের অংশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। সম্মিলিতভাবে এগুলোর আয়তন ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
যুদ্ধবিরতির জন্য কয়েক দফা আলোচনা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। রাশিয়ার দাবি, ক্রিমিয়া ও চার দখলকৃত প্রদেশকে ইউক্রেনকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।অপরদিকে ইউক্রেন বলছে, রাশিয়া যদি দখল করা অঞ্চলগুলো থেকে সেনা প্রত্যাহার করে, তাহলেই যুদ্ধবিরতি সম্ভব। এমন জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই কুপিয়ানস্কের পতন সংঘাতকে আরও গভীর দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সূত্র : এএফপি
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম