রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার দেউলবাড়ী ইউনিয়ন প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে ঘেরা এক বিস্তৃত বিলাঞ্চল। বছরের অধিকাংশ সময় পানিতে ভরা এ অঞ্চলে দিগন্তজোড়া বিল, ছড়িয়ে থাকা কচুরিপানা আর মৃদু ঢেউয়ের সঙ্গে মিশে থাকে সকালের কুয়াশা। তবে এই সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ—বিশেষত স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের।
স্থায়ী সড়ক না থাকায় দেউলবাড়ীর শিক্ষার্থীদের সারাবছর ভরসা নৌকা। বর্ষা তো বটেই, শীত-গ্রীষ্মেও পানি কমে না। কোথাও তীব্র স্রোত, কোথাও কচুরিপানায় নৌকা আটকে যাওয়া—এ সবই তাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা। মাঝে মাঝে নৌকা ডুবির ঘটনাও ঘটে; এতে নষ্ট হয়ে যায় বই-খাতা, ভিজে যায় স্কুলের পোশাক। পরীক্ষার দিন নৌকা দেরি করলে সময়মতো কেন্দ্রেও পৌঁছাতে পারে না অনেকেই।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিদিন নৌকায় ভর করে স্কুলে যাওয়া এখন মানসিক চাপের কারণ। শিক্ষার্থী বায়েজিদ জানায়, ‘ভোরে কুয়াশার মধ্যে নৌকায় উঠতেই ভয় লাগে। নৌকা দুললে মনে হয় আজ হয়তো স্কুলে পৌঁছানোই হবে না।’ তাদের আশা—একটি স্থায়ী সড়ক হলে এই দুর্ভোগ অনেকটাই কমে যাবে।
অভিভাবকদের উদ্বেগ আরও তীব্র। সন্তানদের নিরাপদে যাতায়াত নিশ্চিত না হওয়ায় প্রতিদিন আতঙ্কে থাকেন তারা। অভিভাবক ইকবাল তালুকদার বলেন, ‘প্রতিদিন সন্তানদের এভাবে ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যেতে হয়। নৌকা ডুবির ভয়, বই নষ্ট হওয়ার ঝামেলা, আকস্মিক ঝড়-বৃষ্টি—সব মিলিয়ে আমাদের দুশ্চিন্তার শেষ থাকে না।’ তিনি দ্রুত সড়ক নির্মাণের দাবি জানান।
সোনাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ছরোয়ার হোসেন বলেন, নৌকানির্ভর এই যাতায়াত শিক্ষার অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। অনেক শিক্ষার্থী প্রতিকূলতার কারণে দেরিতে আসে, কেউ কেউ নিয়মিত স্কুলে আসতেও পারে না। তার মতে, স্থায়ী উঁচু সড়ক নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।
স্থানীয়দের মতে, দেউলবাড়ী ইউনিয়নে একটি স্থায়ী সড়ক নির্মাণ হলে বদলে যাবে পুরো এলাকার চিত্র। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমবে, চিকিৎসাসেবা পৌঁছানো সহজ হবে, কৃষিপণ্য পরিবহনেও আসবে নতুন গতি। বিলাঞ্চলের শিশু-কিশোরদের শিক্ষার আলো ধরে রাখতে একটি সড়ক নির্মাণ এখন অত্যাবশ্যক বলে মনে করেন তারা।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি