গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি : গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার মাঝবাড়ি ও বঙ্কুরা এলাকায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে খাল পুনঃখননের কারণে পাশের সড়ক ভেঙে খালের মধ্যে ধসে পড়ছে। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ওই সড়ক ব্যবহার করছেন স্থানীয় মানুষ ও বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি সেচ দিয়ে মাটি তুললে সড়ক ভাঙনের ঝুঁকি অনেক কম থাকত। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী নিয়ম মানেনি। পানিভর্তি খালে সরাসরি ড্রেজার বসিয়ে খনন করায় দিন দিন বেড়েই চলেছে সড়ক ধস।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ড ২০২৪ সালে ১৫ কোটি ৪৪ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয়ে গোপালগঞ্জ–পয়সারহাট খাল পুনঃখননের কাজ শুরু করে। প্রকল্পের শর্তানুযায়ী প্রথমে পানি সেচ দিয়ে পরে খনন করার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান খান লিমিটেড তা অনুসরণ করেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, হিরণ ইউনিয়নের বঙ্কুরা এলাকায় বীর বিক্রম হেমায়েত উদ্দীন সড়কের বড় অংশ ভেঙে খালে পড়ে গেছে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ৬১ নম্বর মাঝবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বঙ্কুরা মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।
বঙ্কুরা মাদ্রাসার শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, “এই রাস্তা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। কাল রাতে গাছসহ বড় অংশ ভেঙে খালে পড়ে গেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “চুক্তি না মেনে লোক দেখানো কাজ করছে ঠিকাদার। কোটি টাকার প্রকল্প হলেও কাজের মান নেই। জবাবদিহিতা না থাকায় এ অবস্থা হয়েছে।”
এদিকে চলতি অর্থবছরে উপজেলার আরও নয়টি খাল পুনঃখননের কাজও পানি সরানো ছাড়াই পানির মধ্যেই এস্কেভেটর বসিয়ে করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আতাউর রহমান খান লিমিটেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেজবাউদ্দিন বলেন, “সেচ দিলে রাস্তা ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, তাই ড্রেজার দিয়ে কাজ করছি। রাস্তা ভাঙলে আমরা মেরামত করে দেব।”
প্রকল্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “ভৌগোলিক কারণে পানি সরানো সম্ভব হয়নি। সড়ক ক্ষতির বিষয়টি জেনেছি, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন