রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা একমাত্র সরকারের, এ মর্মে হাইকোর্ট একটি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছে। আদালত বলেছে, ২০২৩ সালের ওষুধ ও কসমেটিকস আইন এবং পূর্বের সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে নিত্যপ্রয়োজনীয় ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মূল্য নির্ধারণ সরকারের এখতিয়ারভুক্ত। এই বিষয়ে সরকারের নিষ্ক্রিয়তার কোনো সুযোগ নেই।
সাত বছর আগে করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৫ আগস্ট রায় দেন। সোমবার ২৭ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে।
রিট আবেদনকারী সংগঠন এইচআরপিবির পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, রায়ের ফলে জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মূল্য এখন থেকে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইচ্ছামতো বাড়াতে পারবে না। সরকারের নির্ধারিত মূল্যই চূড়ান্ত হবে।
রায়ে বলা হয়, ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-১৯৮২–এর ১১(১) ধারা এবং ২০২৩ সালের আইনের ৩০(১) ও ৩০(২) ধারা অনুযায়ী সরকার গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য নির্ধারণ করতে বাধ্য। মূল্য নির্ধারণের জন্য সরকারকে একটি তালিকা প্রস্তুত করে তা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানাতে হবে।
রিটকারী পক্ষ জানায়, ১৯৯৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সরকার ৭৩৯টি ওষুধের মূল্য পুনঃনির্ধারণ করেছিল। পরে তা সংশোধন করে ১৯৯৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি মাত্র ১১৭টি ওষুধকে মূল্য নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনার সার্কুলার জারি করা হয়। ওই সার্কুলারকে চ্যালেঞ্জ করেই ২০১৮ সালে হাইকোর্টে রিট করা হয়।
রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। শুনানিতে ওষুধ প্রস্তুতকারক সমিতির পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।
পূর্ণাঙ্গ রায়ে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন, জীবনরক্ষাকারী সকল প্রয়োজনীয় ওষুধের মূল্য দ্রুত সরকারকে নির্ধারণ করে গেজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে। এছাড়া আইন অনুযায়ী সরকার কর্তৃক গঠিত কমিটির মাধ্যমেই ভবিষ্যতে ওষুধের মূল্য নির্ধারিত হবে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি