রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর ৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সম্ভাবনাকে হেলায় হারাতে চান না নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সর্বস্তরের মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ কেমন হবে—সে বিষয়ে নাগরিকদের মতামতের ভিত্তিতে একটি নাগরিক ইশতেহার তৈরি করা হবে, যা আগামী ডিসেম্বরের শেষে জাতীয় নেতৃবৃন্দের হাতে তুলে দেওয়া হবে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ নগরীর ব্র্যাংক লার্নিং সেন্টারে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম আয়োজিত প্রাকনির্বাচনী আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় স্বাগত বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. দেবপ্রিয় জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নাগরিক মতামত সংগ্রহের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে সিলেট, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশালে অনুরূপ পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচন হলে এসব নাগরিক দাবি বাস্তবায়নে সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সভায় প্রধান সমন্বয়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের দুইটি প্রশ্ন রাখেন—নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের কাছে তাদের প্রত্যাশা কী এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের করণীয় কী। জবাবে অধিকাংশ নাগরিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা রক্ষার ওপর জোর দেন।
অংশগ্রহণকারীরা দুর্নীতিমুক্ত সমাজ, আইনের শাসন, নারীর অধিকার, স্থানীয় উন্নয়ন, ন্যায়বিচার, মেধাভিত্তিক নিয়োগ, কালো টাকার প্রভাবমুক্ত পরিবেশ এবং মনোনয়ন বাণিজ্য বন্ধের দাবি তুলে ধরেন। এছাড়া শিক্ষিত ও যোগ্য ব্যক্তিদের সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়ার পক্ষে মত দেন তারা।
সভায় বক্তব্য রাখেন সিপিডির ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ আমজাদ আলী, একেএম মাহবুবুল আলম, জামায়াতের নেতা ড. শহীদুল্লাহ কায়সার, সিপিবির নেতা মোস্তাফিজুর রহমান জুয়েল, জেলা সুজনের সম্পাদক ইয়াজদানী কোরায়শী কাজলসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি