এ এইচ সবুজ (গাজীপুর প্রতিনিধি): গত ২৬ নভেম্বর পাঠকপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল ‘রিপোর্টার্স ২৪’-এ ‘কাপাসিয়ায় কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে তা নজরে আসে গাজীপুর পরিবেশ অধিদপ্তর ও কাপাসিয়া উপজেলা প্রশাসনের।
এরই ধারাবাহিকতায় গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বারিষাব ইউনিয়নের নরোত্তমপুর ও রায়েদ ইউনিয়নের আমতলী এলাকায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও কাপাসিয়া উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে অবৈধ কয়লা চুল্লির দু’টি কারখানা ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।
রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাহিদুল হক এ অভিযান পরিচালনা করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. রকিবুল হাসান ও কাপাসিয়া ফায়ার সার্ভিসের ওয়ারহাউজ ইন্সপেক্টর মাহফুজুর রহমান। এছাড়াও কাপাসিয়া থানার পুলিশ সদস্য ও আনসার সদস্যরা সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করেন।
জানা যায়, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন যাবত এলাকার সবুজ বনাঞ্চল থেকে কাঁচা কাঠ কেটে বিশেষ ধরনের চুল্লিতে পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করে আসছিলো। অনুমোদনহীন অবৈধ ক্ষতিকর চুল্লির প্রভাবে একদিকে যেমন বন্যপ্রাণিরা ঠিকানা বিহীন হয়ে পড়ছিল, অন্যদিকে জীববৈচিত্র্যের উপর বিরূপ প্রভাব পড়ছিল।
স্থানীয়রা জানান, অনুমতি বিহীন অবৈধভাবে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির স্তুপ আকৃতির বিশেষ ধরনের চুলা থেকে নির্গত বিষাক্ত ঝাঁঝালো দূর্গন্ধযুক্ত কালো ধোঁয়া বাতাসে ছড়িয়ে পরে। এতে পরিবেশ দূষিত হচ্ছিল। অনেকে শ্বাসকষ্টেও ভুগছিলেন।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশন (ভূমি) মো. নাহিদুল হক বলেন, ‘পরিবেশগত দিক থেকে কাপাসিয়া অত্যন্ত সুন্দর। পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কোন কাজ প্রশাসন হতে দেবে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নির্দেশে অবৈধ কয়লা চুল্লির দু’টি কারখানায় অভিযান চালিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব