| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নদীর উপর নির্মিত প্রকল্প পরিবেশগত ক্ষতি ডেকে আনছে : উপদেষ্টা রিজওয়ানা

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ০৫, ২০২৫ ইং | ০৯:৩৪:৩৪:পূর্বাহ্ন  |  ১১৭৯৮৬০ বার পঠিত
নদীর উপর নির্মিত প্রকল্প পরিবেশগত ক্ষতি ডেকে আনছে : উপদেষ্টা রিজওয়ানা
ছবির ক্যাপশন: ছবি: সংগৃহীত

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, নদীর উপর নির্মিত অনেক প্রকল্প পরিবেশগত ক্ষতি ডেকে আনছে। নদীকে জীবন্ত সিস্টেম হিসেবে না বিবেচনা করলে এর প্রভাব অপরিবর্তনীয় হতে পারে।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) নেপালের কাঠমান্ডুতে অনুষ্ঠিত ‘হিন্দুকুশ হিমালয়ায় পানি ও জলবায়ু সহনশীলতা’ সংক্রান্ত সাব-রিজিওনাল কর্মশালায় ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তৃতা কালে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, “সব দেশেই নীতি, আইন ও বন্যা ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান থাকলেও বাস্তবায়নের ঘাটতি বড় বাধা হয়ে আছে। কয়েক দশক আগে গড়ে ওঠা বাঁধ ও নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোর কারণে নদী ব্যবস্থায় অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এগুলো পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন।”

তিনি দক্ষিণ এশিয়ায় পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, নদীর অধিকার, পানি ন্যায্যতা, দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলা এবং হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সমান সুফল বণ্টন জরুরি।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা বলেন, “পানি যুগ যুগ ধরে দেশগুলোর সম্পর্ক যুক্ত করেছে, তবে দক্ষিণ এশিয়ায় এটি সবচেয়ে কম ব্যবস্থাপিত যৌথ সম্পদ হিসেবে রয়ে গেছে। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে জাতিসংঘের পানি কনভেনশন–এ যুক্ত হয়েছে এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ডাটা বিনিময় ও আন্তঃসীমান্ত নদীর ন্যায্য বণ্টনে সক্রিয় সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত।”

তিনি আরও বলেন, “নেপাল, ভুটান বা ভারতের নদীতে যা ঘটে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে বাংলাদেশে। আমাদের ৯০ শতাংশ নদী উজান থেকে নেমে আসে। বন্যা, খরা, পলি জমা, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় বা নদীভাঙন—সবই আঞ্চলিক সমস্যা, যা আন্তঃসীমান্ত জলপ্রবাহের কারণে সৃষ্টি হয়।”

রিজওয়ানা হাসান জানান, শিল্প বর্জ্য, অবৈধ দখল, খনন ও পরিকল্পনাহীন উন্নয়ন কার্যক্রম নদী ব্যবস্থাকে হুমকিতে ফেলছে। তিনি নদী পুনরুদ্ধারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরে নেপালের উদ্যোগকেও প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, “নদী জীবন্ত সত্তা এবং তার অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে। নদীগুলো শুধুমাত্র সেচ, নৌপরিবহন বা বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস নয়, বরং জীবন ও প্রাণবৈচিত্র্যের ধারক।”

উপস্থিত বক্তারা আঞ্চলিক জলবিদ্যুৎ বাণিজ্য ও সহযোগিতার সুযোগ, নদীর ন্যায্য ব্যবস্থাপনা এবং আস্থাভিত্তিক যৌথ কাঠামো গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের চেয়ারম্যান ড. কল্যাণ রুদ্র, ড. দেবোলিনা কুণ্ডু, অরবিন্দ কুমার; নেপালের সঞ্জীব বরাল; ভুটানের পেমা থিনলে; বাংলাদেশের ড. মো. আবদুল হোসেন এবং ইউথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান।

রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪