রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর জন্মগত নাগরিকত্ব অধিকার সংবিধানের ১৪তম সংশোধনী অনুযায়ী বহাল থাকবে কি না,এ বিষয়ে শুনানি করতে সম্মতি দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনেই অবৈধভাবে বসবাসরত বা অস্থায়ী ভিসাধারী পিতামাতার সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সুবিধা বাতিল করে আদেশ জারি করেছিলেন। তবে নিম্ন আদালতগুলো সেই আদেশ আটকে দিলে বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতে গড়ায়।
সুপ্রিম কোর্ট এখনো শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেনি। রায় পেতেও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। আদালত যে সিদ্ধান্তই দিক না কেন, তা ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি ও ‘আমেরিকান নাগরিক’ সংজ্ঞার ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় এক শতাব্দী ধরে প্রচলিত ১৪তম সংশোধনীতে বলা আছে দেশটির মাটিতে জন্মগ্রহণকারী সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হবে। শুধু বিদেশি কূটনীতিক ও বিদেশি সামরিক সদস্যদের সন্তানদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম প্রযোজ্য।
ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সংশোধনীতে থাকা “subject to the jurisdiction thereof”–এর অর্থ হলো যারা দেশটিতে স্থায়ী বা বৈধভাবে নেই, তাদের সন্তানরা নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী নয়। এই ব্যাখ্যার বৈধতা নিয়েই এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে সুপ্রিম কোর্ট।
এ বিষয়ে মামলার বাদী আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)। সংগঠনের ন্যাশনাল লিগ্যাল ডিরেক্টর সেসিলিয়া ওয়াং বলেন, কোনো প্রেসিডেন্টই ১৪তম সংশোধনীতে দেওয়া নাগরিকত্বের মৌলিক নিশ্চয়তা পরিবর্তন করতে পারেন না। দেড়শ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নিলেই সে নাগরিক হওয়ার অধিকারী এটাই আইন ও দেশটির প্রথা।
ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের বিরুদ্ধে কয়েকটি ফেডারেল কোর্ট রায় দিয়ে বলেছে, এটি সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। যদিও দুটি আপিল আদালত আদেশ কার্যকরের ওপর দেওয়া স্থগিতাদেশ বজায় রেখেছে। পরে স্থগিতাদেশ বাতিলের আবেদন জানিয়ে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টে গেলে আদালত মত দেয় যে নিম্ন আদালত তাদের এখতিয়ার অতিক্রম করেছে, তবে জন্মগত নাগরিকত্ব বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি।
গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে মুক্ত দাস ও তাদের সন্তানদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করতে ১৮৬৮ সালে ১৪তম সংশোধনী পাস হয়। এর তিন বছর আগে ১৩তম সংশোধনীতে দাসপ্রথা বিলুপ্ত করা হয়েছিলো।
মার্কিন সলিসিটর জেনারেল ডি জন সাউয়ের দাবি, ১৪তম সংশোধনী মূলত মুক্ত দাসদের জন্য প্রণীত হয়েছিল, অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের জন্য নয়। তাঁর মতে, আমেরিকার মাটিতে জন্ম নিলেই নাগরিকত্ব পাওয়া যায় এ ধারণা ভুল এবং এর পরিণতি ধ্বংসাত্মক হতে পারে।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী পিতামাতার ঘরে জন্ম নেওয়া শিশুর সংখ্যা ছিল প্রায় আড়াই লাখ, যা ২০০৭ সালের তুলনায় ৩৬ শতাংশ কম। ২০২২ সাল নাগাদ এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১২ লাখে।
মাইগ্রেশন পলিসি ইন্সটিটিউট ও পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষণায় বলা হয়েছে, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সুবিধা বাতিল হলে যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিত জনসংখ্যা ২০৪৫ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ২৭ লাখ এবং ২০৭৫ সালের মধ্যে ৫৪ লাখ পর্যন্ত বাড়তে পারে।সূত্র: বিবিসি
রিপোর্টার্স২৪/এসসি