স্টাফ রিপোর্টার: একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের জুলাই গণ–অভ্যুত্থান—দুটিই বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ—এমন বার্তায় মুখর ছিল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত বিজয় দিবস কনসার্ট। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার বিকেলে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে এ কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়।
বেলা তিনটার কিছু আগে তারার মেলা সংগীত একাডেমির পরিবেশনায় কনসার্টের সূচনা হয়। সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় ‘রক্ত দিয়ে নাম লিখেছি বাংলাদেশের নাম’, ‘মুক্তির মন্দির সোপান তলে’সহ দেশাত্মবোধক গান। এরপর ব্যান্ড এফ মাইনর পরিবেশন করে ‘রেল লাইনের ধারে’ ও ‘জংলা ফুল’।
বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সংগীতশিল্পী ফারজানা ওয়াহিদ সায়ান গানে গানে বলেন, একাত্তর ও চব্বিশকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর অপচেষ্টা রুখে দিতে হবে এবং একাত্তরের চেতনাকে সঙ্গে নিয়েই সামনে এগোতে হবে।
বিকেল চারটার দিকে মঞ্চে ওঠে ব্যান্ড ফিরোজ জং। তাদের ভোকালিস্ট মার্ক রাতুল সিনহা মুক্তিযুদ্ধের গান শুনে আবেগাপ্লুত হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সন্ধ্যার পর দর্শকে কানায় কানায় ভরে ওঠে কনসার্ট প্রাঙ্গণ। রাত সাতটার পর ব্যান্ড শিরোনামহীন পরিবেশন করে ‘বুলেট কিংবা কবিতা’, ‘একা পাখি বসে আছে’সহ জনপ্রিয় গান। এ সময় ভোকালিস্ট শেখ ইশতিয়াক মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন।
রাত আটটায় ব্যান্ড লালনের পরিবেশনায় দর্শকদের উচ্ছ্বাস চূড়ায় পৌঁছে। ‘পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না’ গানে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে ও জাতীয় পতাকা ওড়িয়ে অংশ নেন দর্শকেরা। রাত সাড়ে আটটার দিকে কনসার্ট শেষ হয়।
কনসার্টে আরও পরিবেশন করে ব্যান্ড ইলা লালালা, টং-এর গান, আফটার ম্যাথ ও বাংলা ফাইভ। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন দীপক কুমার গোস্বামী ও মারিয়া ফারিহ।