| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শাকেরের মৃত্যুর কারণ শনাক্তে ব্যর্থ, চিকিৎসককে সাময়িক অব্যাহতি

reporter
  • আপডেট টাইম: অক্টোবর ২৪, ২০২৬ ইং | ০২:০০:০৪:পূর্বাহ্ন  |  ১২০১ বার পঠিত
শাকেরের মৃত্যুর কারণ শনাক্তে ব্যর্থ, চিকিৎসককে সাময়িক অব্যাহতি

মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরা পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করতে না পারার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক।

বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টারে গুলিবিদ্ধ হন পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেন (৩৯)। পরে তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসান প্রাথমিকভাবে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানান।

চিকিৎসকের বক্তব্যের পর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে গোসলের প্রস্তুতিকালে স্বজনেরা শাকেরের মাথার পেছনে একটি ছিদ্র দেখতে পান। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে মরদেহ আবার হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়।

ময়নাতদন্তের পর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কৃষ্ণ দাস বিশ্বাস জানান, নিহতের মাথার খুলির ভেতর থেকে একটি বুলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এরপর শাকেরের মৃত্যুর ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।

এ ঘটনায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে না পারা এবং চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নিহতের স্বজনেরা এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক খন্দকার মাইনুল হাসানকে হাসপাতালের সব কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মহসিন উদ্দিন ফকির জানান, শাকের হোসেনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সঠিকভাবে শনাক্ত করতে না পারার ঘটনায় জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মাইনুল হাসানকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে।

এদিকে শাকের হোসেন হত্যা মামলায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রনি শিকদার (৩৮) ও শামীমা তাবাসসুম লুবনা (৩১) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে মাগুরা শহরের তাঁতিপাড়া এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে রনি শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর প্রায় আধা ঘণ্টা পর সদর উপজেলার বুজরুক শ্রীকৃতী এলাকা থেকে শামীমা তাবাসসুম লুবনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাগুরা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামরুজ্জামান জানান, হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটন, জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহন উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে।

তবে গ্রেপ্তার রনি শিকদারের বড় ভাই রাজীব শিকদার দাবি করেছেন, নিহত শাকের হোসেনের সঙ্গে তার ভাইয়ের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। এ অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিহত শাকের হোসেন মাগুরা পৌর যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টারে মাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে নিহতের স্ত্রী শারমিন নাহার রুমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মাগুরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে মাগুরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

শাকের হোসেনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে না পারার ঘটনায় চিকিৎসকের দায়িত্ব পালনের বিষয়টি এখন তদন্তের আওতায় আসছে। অন্যদিকে হত্যা মামলার তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং ব্যবহৃত অস্ত্র ও যানবাহন উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪