রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) দাখিল করা চার্জশিট গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে দিল্লির একটি আদালত। এই রায়ের পর ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণে নেমেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পদত্যাগ দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) দেওয়া আদেশে দিল্লির আদালত জানায়, আইনের দৃষ্টিতে ইডির দাখিল করা চার্জশিট বিচারিক কার্যক্রম শুরু করার মতো যথেষ্ট নয়। আদালতের এই অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
এর পরদিন বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, এই রায় প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মুখে চড় মারার শামিল। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে যে মামলা করা হয়েছিল, আজ তার মুখোশ খুলে গেছে।
খাড়গে অভিযোগ করেন, গান্ধী পরিবারকে হেয় করা ও হয়রানি করতেই ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলা সাজানো হয়েছিল। তার ভাষায়, এই মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বিরোধীদের দমন করাই ছিল এর একমাত্র লক্ষ্য।
ইডির দায়ের করা মামলায় গান্ধী পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি সুমন দুবে, স্যাম পিত্রোদা, ইয়ং ইন্ডিয়ান, ডোটেক্স মার্কানডিসে ও সুনীল ভাণ্ডারীর নামও অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে আদালতের সাম্প্রতিক আদেশের ফলে মামলাটির আইনি ভিত্তি বড় ধরনের সংকটে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানায়, ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকা নিয়ে প্রথম দুর্নীতির অভিযোগ তোলে বিজেপি, ২০১৩ সালে। পত্রিকাটি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই ইস্যুতে আইনি তৎপরতা জোরদার হয়। অভিযোগ ছিল, অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেডের (এজেএল) প্রায় ৯০ কোটি টাকা ঋণ ছিল, যার বড় অংশ কংগ্রেসের কাছ থেকে নেওয়া। এই ঋণ ও মালিকানা কাঠামো নিয়েই দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আইনি লড়াইয়ে আদালতের সর্বশেষ রায়কে কংগ্রেস শিবির রাজনৈতিক ও নৈতিক বিজয় হিসেবে দেখছে। একই সঙ্গে বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে বলেও মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম