এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক: নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ মুক্তির ৯ বছর পেরিয়ে পপ কালচারের অঙ্গনে একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছে। আশির দশকের প্রেক্ষাপটে কিশোরদের হরর, অ্যাডভেঞ্চার ও রহস্যময় গল্প নিয়ে নির্মিত এই সিরিজটি বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মন জয় করেছে।
সিরিজটির পঞ্চম ও শেষ মৌসুমের প্রথম কিস্তি গত মাসে মুক্তি পাওয়ার পরেই নেটফ্লিক্সের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ওপেনিং সপ্তাহের রেকর্ড গড়েছে। মাত্র এক মাসে ভলিউম ১-এর ভিউ ১২০ কোটি অতিক্রম করেছে। সিরিজটি ৯৩টি দেশের মধ্যে ৯০টি দেশে সপ্তাহের সর্বাধিক দেখা কনটেন্ট হিসেবে শীর্ষে রয়েছে। এর সঙ্গে সঙ্গে এটি আগের মৌসুমগুলোর দর্শকদেরও ফিরিয়ে আনছে।
বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে সিরিজটি ৮ হাজারের বেশি চাকরির সুযোগ তৈরি করেছে এবং দেশটির অর্থনীতিতে ১৪০ কোটি ডলার যোগ করেছে। স্পটিফাইতে সিরিজে ব্যবহৃত পুরনো গানের স্ট্রিমিং নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। সিরিজে চরিত্র ইলেভেন-এর প্রিয় খাবার হিসেবে দেখানো ফ্রোজেন ওয়াফল ‘ইগো’ নতুন করে জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
লাইভ ইভেন্ট ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস: দ্য এক্সপেরিয়েন্স’-এর টিকিট বিক্রি হয়েছে ৮ লাখ ৫০ হাজার এবং ২৩ দেশের ৩২ শহরে আয়োজিত ইভেন্টে অংশ নিয়েছেন ৩ লাখের বেশি ভক্ত।
চূড়ান্ত পর্ব ৩১ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার প্রেক্ষাগৃহে। সিরিজের প্রভাব কেবল টিভি বা স্ট্রিমিং পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়; বই, কমিক, মঞ্চ ও সংগীতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এটি বিপুল প্রভাব ফেলেছে। মঞ্চস্থ প্রিকুয়েল নাটক ‘দ্য ফার্স্ট শ্যাডো’ ইতিমধ্যেই একাধিক পুরস্কার জিতেছে।
অভিনেতাদের ক্যারিয়ারের জন্যও সিরিজটি বড় টার্নিং পয়েন্ট। মিলি ববি ব্রাউনের ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার বৃদ্ধি পেয়েছে ২১ লাখ থেকে ৬ কোটি ৮০ লাখে, স্যাডি সিঙ্কের ফলোয়ার ১১ লাখ থেকে ২ কোটি ৬৮ লাখে।
পর্দা, বই, মঞ্চ, সংগীত ও ব্যবসা—সব মিলিয়ে ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ গত এক দশকে পপ কালচারের অন্যতম শক্তিশালী এবং প্রভাবশালী সিরিজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি