রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মার্জারের (একীভূতকরণ) আওতাভুক্ত ৫টি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীরা চলতি বছরের মধ্যে টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাচ্ছেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে ২৯ ডিসেম্বর থেকে টাকা উত্তোলনের খবর ছড়িয়েছে, তা ভিত্তিহীন ও অসত্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত উত্তোলনের প্রক্রিয়া নীতিগতভাবে চলমান, তবে সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
ব্যাংকের হিসাব স্থানান্তর শেষ পর্যায়ে
৫টি ব্যাংকের গ্রাহকদের **হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’-এ স্থানান্তরিত হবে। গ্রাহকদের নতুন আবেদন বা অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতা করার প্রয়োজন নেই। হিসাব স্থানান্তরের পর প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা উত্তোলন করা যাবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, নতুন বছরের শুরু থেকেই ধাপে ধাপে উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে। যেসব গ্রাহকের হিসাব দুই লাখ টাকার বেশি, তারা প্রথমে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা তুলতে পারবেন। এরপর প্রতি তিন মাস অন্তর এক লাখ টাকা করে ধাপে ধাপে উত্তোলন করতে পারবেন, সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত। ৬০ বছরের বেশি বয়সী এবং ক্যানসার আক্রান্ত গ্রাহকরা যে কোনো সময় যেকোনো পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করতে পারবেন।
নতুন ব্যাংক ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’
ফার্স্ট সিকিউরিটি, গ্লোবাল, সোশ্যাল, এক্সিম ও ইউনিয়ন ব্যাংককে অধিগ্রহণের জন্য ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ গঠন অনুমোদিত হয়েছে। পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে সরকার ২০ হাজার কোটি এবং আমানত বিমা তহবিল ১৫ হাজার কোটি।
৫টি ব্যাংকের প্রকৃত সম্পদ ঋণাত্মক হওয়ায় শেয়ার শূন্য করার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বর্তমানে এসব ব্যাংকে ৭৫ লাখ আমানতকারীর ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা জমা থাকলেও ঋণ ১ লাখ ৯৩ হাজার কোটি টাকা।
ব্যাংকভিত্তিক আমানতকারীর চিত্র
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন বছরের শুরুতেই টাকা উত্তোলনের এই উদ্যোগ আমানতকারীদের আস্থা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ইসলামী ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটাতে সহায়ক হবে।
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা