| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: তৃতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দেবেন তদন্ত কর্মকর্তা

reporter
  • আপডেট টাইম: ডিসেম্বর ২৯, ২০২৫ ইং | ০৯:৩৯:৪৭:পূর্বাহ্ন  |  88337 বার পঠিত
আবু সাঈদ হত্যা মামলা: তৃতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য  দেবেন তদন্ত কর্মকর্তা

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজও সাক্ষ্য দেবেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন। সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে এ মামলায় আজ তৃতীয় দিনের মতো তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ এই সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আজকের জবানবন্দির শুরুতেই মামলার আসামিদের ব্যক্তিগত দায় ও সংশ্লিষ্টতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর পর্যায়ক্রমে পুরো ঘটনার ধারাবাহিক বিবরণ উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। এর আগে গতকাল (রোববার) তিনি ১৬ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ ও প্রমাণের বর্ণনা দেন। অবশিষ্ট আসামিদের বিষয়ে আজ তার সাক্ষ্য সম্পন্ন হবে। এ মামলায় তিনি ২৫ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিচ্ছেন।

জবানবন্দিতে তদন্তকালীন সময়ে কোথা থেকে কীভাবে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে, কোন তারিখে কী জব্দ করা হয়েছে—এসব বিষয়ও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরছেন তদন্ত কর্মকর্তা। গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে গ্রেপ্তার ও পলাতক আসামিদের আইনজীবীরা তাকে জেরা করবেন।

এর আগে, গত ১০ ডিসেম্বর বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন। একই দিনে তদন্ত সংস্থার রেকর্ড সংরক্ষণকারী এসআই মো. কামরুল হোসেনের জবানবন্দিও গ্রহণ করা হয়। এ পর্যন্ত এ মামলায় মোট ২৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।

গত ৯ ডিসেম্বর মামলার ২২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের সময়কার ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন এবং সমন্বয়কদের তুলে নেওয়ার পর কোথায় রাখা হয়েছিল সে বিষয়ে একটি নতুন সেইফ হাউজের তথ্য দেন। জবানবন্দিতে তিনি সময় টিভি, ডিবিসি ও ৭১ টিভিসহ কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগও উত্থাপন করেন। তার দাবি অনুযায়ী, গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সামনে বসেই স্ক্রল বলতেন, যা পরে ওই চ্যানেলগুলোতে প্রচার করা হতো।

এ মামলায় এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন এএসআই আমির হোসেন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। বাকি আসামিরা এখনও পলাতক রয়েছেন।

চলতি বছরের ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এর আগে ৬ আগস্ট ট্রাইব্যুনাল ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। তবে সাবেক ভিসিসহ ২৪ জন আসামি এখনও পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে গত ২২ জুলাই সরকারি খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়।

উল্লেখ্য, ৩০ জুন ট্রাইব্যুনাল মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় এবং ২৪ জুন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। এ মামলায় মোট সাক্ষীর সংখ্যা ৬২ জন।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪