রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিদেশি নাগরিকরা বিনিয়োগ, বংশানুক্রম, বিয়ে বা নির্দিষ্ট সময় আইন মেনে বৈধভাবে বসবাসের মাধ্যমে নতুন পাসপোর্ট বা দ্বৈত নাগরিকত্ব পেতে পারেন। বিশ্বের অনেক দেশে নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া কঠিন, তবে কিছু দেশেই এটি অপেক্ষাকৃত সহজ। চলুন দেখে নিই সেসব দেশ:
১. আয়ারল্যান্ড
আয়ারল্যান্ডে বংশানুক্রমের ভিত্তিতে নাগরিকত্ব নেওয়া যায়। যদি বাবা-মা বা দাদা-দাদি আয়ারল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন, তাহলে সেই সন্তান নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারেন। বিদেশি জন্মনিবন্ধনের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হবে। নাগরিকত্ব নেওয়ার পর দ্বৈত জাতীয়তা বজায় রাখা যায়, ভাষা পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না, এবং ইইউ পাসপোর্ট ও ইউরোপজুড়ে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ মিলবে।
২. ডোমিনিকা
ক্যারিবিয়ান দ্বীপদেশ ডোমিনিকায় নাগরিকত্ব নেওয়া যায় বিনিয়োগের মাধ্যমে। ইকোনমিক ডাইভারসিফিকেশন ফান্ড বা রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগ করে বিদেশিরা কয়েক মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব পেতে পারেন। ডোমিনিকায় নাগরিকত্ব নেওয়ার পর দ্বৈত জাতীয়তা রাখা সম্ভব এবং সেখানে বসবাসেরও বাধ্যবাধকতা নেই। পাসপোর্টে ১৪০টির বেশি দেশে ভিসামুক্ত ভ্রমণের সুযোগ থাকে।
৩. তুরস্ক
তুরস্কে নাগরিকত্ব সহজেই পাওয়া যায় সরাসরি বিনিয়োগের মাধ্যমে। কমপক্ষে ৪ লাখ মার্কিন ডলারের রিয়েল এস্টেট কিনলেই কয়েক মাসের মধ্যে নাগরিকত্ব মিলবে। নিজ দেশের নাগরিকত্ব বা আসল জাতীয়তা ত্যাগের প্রয়োজন নেই, এবং তুরস্কে বসবাসের বাধ্যবাধকতাও নেই। নাগরিকত্বের মাধ্যমে অনেক দেশে ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসার সুবিধা পাওয়া যায়।
৪. ভানুয়াতু
প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুতে সরকারি তহবিলে ন্যূনতম বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব নেওয়া যায়। প্রক্রিয়ায় দুই মাসের কম সময় লাগতে পারে। ভানুয়াতুর নাগরিকত্ব শতাধিক দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশাধিকার প্রদান করে এবং বিদেশি আয়ের ওপর কোনো কর নেই।
৫. পর্তুগাল
পর্তুগালের গোল্ডেন ভিসা প্রোগ্রামের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকত্ব পাওয়া যায়। পাঁচ বছর বৈধভাবে বসবাস ও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করা যায়। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড বা রিয়েল এস্টেটের সুযোগ রয়েছে। ভাষা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। দ্বৈত নাগরিকত্বে ভিসামুক্ত ভ্রমণ ও সেনজেন অঞ্চলে প্রবেশ সুবিধা পাওয়া যায়।