রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার বলেছেন, শিক্ষকতা কোনো সাধারণ চাকরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি আজীবনের দায়িত্ব ও নৈতিক অঙ্গীকার। একজন শিক্ষক কেবল পাঠদানই করেন না, বরং সমাজ ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাই শিক্ষকতার মর্যাদা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসে না। নিজের আচরণ, পেশাদারিত্ব, সততা ও দায়িত্ববোধের মাধ্যমেই তা অর্জন করতে হয়।
মঙ্গলবার জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম)-এ অনুষ্ঠিত ২০৬তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, একজন শিক্ষকের সম্মান প্রতিদিনের কাজে প্রমাণিত হয়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পর্ক, সহকর্মীদের প্রতি আচরণ এবং শ্রেণিকক্ষের বাইরের শালীনতা। সবকিছু মিলিয়েই একজন শিক্ষকের ব্যক্তিত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়। তিনি শিক্ষক সমাজকে দলীয় রাজনীতি বা ব্যক্তিগত স্বার্থে জড়িয়ে পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন না করার আহ্বান জানান।
বিষয়ভিত্তিক গভীর জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষণপদ্ধতি ও কার্যকর যোগাযোগ দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ড. আবরার বলেন, একজন শিক্ষককে এমনভাবে পাঠদান করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা তার ওপর আস্থা রাখতে পারে। শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রশ্ন—সহজ হোক বা জটিল—সম্মান ও ধৈর্যের সঙ্গে গ্রহণ করে উত্তর দেওয়াই একজন দায়িত্বশীল শিক্ষকের পরিচয়।
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত শিক্ষাদান কেবল মেধাবী শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যারা পিছিয়ে আছে, যাদের শেখার গতি ধীর—তাদের আলাদা করে সময় ও মনোযোগ দেওয়া একজন শিক্ষকের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
বর্তমান সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পারস্পরিক সম্মান ও সংবেদনশীল আচরণের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন শিক্ষা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, সম্মান কোনো পদ বা জ্যেষ্ঠতার একচেটিয়া বিষয় নয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারী সবাই সম্মানের দাবিদার। এই মূল্যবোধই একটি সুস্থ ও মানবিক শিক্ষাব্যবস্থার ভিত্তি।
বক্তব্যের শেষে ড. সি আর আবরার বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন তরুণ প্রজন্ম ধারণ করছে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মূল কারিগর হচ্ছেন শিক্ষকরা। তাদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম