আশিস গুপ্ত, নতুন দিল্লি : বিসিসিআই-এর নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ভারতীয় রাজনীতিতে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার আবহে নেওয়া এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন বিজেপি-র শরিক দল জেডি(ইউ) এবং তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) বেশ কিছু নেতা।
বাংলাদেশে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক হিন্দু ব্যক্তিকে পিটিয়ে পুড়িয়ে মারার ঘটনার পর গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেটার মুস্তাফিজুরকে দল থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টিকে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রভাবমুক্ত রাখার দাবি জানিয়েছেন জেডি(ইউ) উপদেষ্টা কে সি ত্যাগী।
তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে ক্রিকেট ও রাজনীতিকে মেলানো উচিত নয় এবং কেকেআর মালিক শাহরুখ খানের ওপর ধর্মীয় নেতাদের চাপের সমালোচনাও করেন তিনি।একইভাবে টিডিপি নেতা লাভু শ্রী কৃষ্ণ দেওরায়ালুও প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও খেলাধুলার মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন।
মুস্তাফিজুরকে বাদ দেওয়ার জেরে বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ভারতে দল পাঠাতে অস্বীকার করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তারা আইসিসি-র কাছে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে এবং টুর্নামেন্টে আম্পায়ার না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সরকারি সূত্র ও বিজেপি-র কিছু নেতার মতে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে এক চোখে দেখা ঠিক নয় এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এমন সিদ্ধান্ত এড়িয়ে চলাই ভালো ছিল। অন্যদিকে, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ প্রশ্ন তুলেছেন যে একজন খেলোয়াড়কে বাদ দিলে কি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতি সম্ভব? তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে এই ধরনের পদক্ষেপ সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বদলে দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে অবিশ্বাসের দেওয়াল আরও মজবুত করবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি