আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করিবীয় সাগরে ভেনেজুয়েলা-সংক্রান্ত দ্বিতীয় তেল ট্যাঙ্কার জব্দ করেছে। মার্কিন সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জব্দকরা ট্যাঙ্কার “স্টেটলেস” এবং নিষিদ্ধ ছিল, এবং এটি অবৈধ কার্যক্রমে যুক্ত ছিল। সেনা সূত্র বলেছে, জাহাজটি “ডার্ক ফ্লিট” নামে পরিচিত বহরে অন্তর্ভুক্ত, যদিও সরাসরি ভেনেজুয়েলা সম্পর্কিত মিশন আছে কিনা তা উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে, মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ড উত্তর আটলান্টিকে ভেনেজুয়েলা-সংযুক্ত প্রথম ট্যাঙ্কার জব্দের ঘোষণা দিয়েছিল। এটি বেলা-১ নামে পরিচিত ছিল, পরে রাশিয়ার পতাকায় Marinera নাম ধরে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। ট্যাঙ্কার বোর্ডিংয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর ক্রু সদস্যরা নাম পরিবর্তন করে রেজিস্ট্রেশন রাশিয়ার নামে করেছেন।
রাশিয়া এই ট্যাঙ্কারকে সাবমেরিন ও অন্যান্য নৌবাহিনী পাঠিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করেছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, রাশিয়ার এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়ার সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে।
মার্কিন প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের তেলের নিয়ন্ত্রণ, ভেনেজুয়েলার তেল বাজারে প্রভাব এবং নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই পদক্ষেপ নিয়েছে। রাশিয়া এবং ভেনেজুয়েলার মিত্র দেশগুলো এই পদক্ষেপকে “অত্যাচার ও হুমকি” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এদিকে, বাজারে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য নেগোসিয়েশনের কারণে বিশ্ববাজারে ক্রুডের দাম প্রায় ১ শতাংশ কমেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ কমান্ড জানিয়েছে, জাহাজের ক্রুদের নিরাপদে আটক ও জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র আরও জাহাজে নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা করছে, যাতে ভেনেজুয়েলার নিষিদ্ধ তেল সরাসরি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবাহিত না হয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা ভেনেজুয়েলার তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা, রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, এবং লাতিন আমেরিকায় মার্কিন হস্তক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক দ্বন্দ্বকে আরও গভীর করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি