রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: ভারতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত ঘিরে যখন দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক চলছে, ঠিক সেই সময় সাবেক জাতীয় অধিনায়ক ও দেশের অন্যতম সফল ওপেনার তামিম ইকবালকে ‘ভারতীয় দালাল’ বলে আখ্যা দিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম।
নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তামিম ইকবালের বক্তব্যসংবলিত একটি ফটোকার্ড শেয়ার করে বিসিবির অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল ইসলাম লেখেন,এইবার আরো একজন পরিক্ষিত (পরীক্ষিত) ভারতীয় দালাল এর আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখলো।
এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ক্রিকেটাঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। দীর্ঘ সময় পোস্টটি অনলাইনে থাকলেও সমালোচনার মুখে গভীর রাতে কোনো একসময় তা মুছে ফেলেন নাজমুল ইসলাম।
কী বলেছিলেন তামিম ইকবাল
মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে আসন্ন বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত এই দুই ইস্যু নিয়ে গত শনিবার থেকেই বাংলাদেশ ও ভারতের ক্রিকেট মহলে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এই প্রেক্ষাপটে মিরপুরের সিটি ক্লাব মাঠে জিয়া আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ট্রফি ও জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তামিম ইকবাল।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তামিম বলেন,মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেওয়া অবশ্যই দুঃখজনক। এতে কোনো সন্দেহ নেই।
তিনি আরও বলেন,আমি যদি বোর্ডে থাকতাম, তাহলে সিদ্ধান্ত নিতাম দেশের ভবিষ্যৎ মাথায় রেখে। হুট করে মন্তব্য করা কঠিন। অনেক সময় আলোচনার মাধ্যমেই অনেক সমস্যার সমাধান হয়।
বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ বিবেচনার ওপর জোর দিয়ে তামিম বলেন,আজকের সিদ্ধান্ত আগামী ১০ বছর পর কী প্রভাব ফেলবে, সেটা চিন্তা করা জরুরি। যেটা দেশের ক্রিকেট ও ক্রিকেটারদের জন্য ভালো, সেই সিদ্ধান্তই নেওয়া উচিত।
সরকার ও বোর্ডের ভূমিকা নিয়ে ইঙ্গিত
কিছুদিন ধরেই গুঞ্জন চলছে, সরকারের নির্দেশেই বিসিবি ভারতে যেতে না চাওয়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বোর্ড কর্মকর্তাদের বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে শুরুতে বিসিবির অবস্থান এতটা কঠোর ছিল না।
তামিমের বক্তব্যেও সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট। তিনি বলেন,বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে আমরা একটি ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট বডি’ মনে করি। সরকার অবশ্যই বড় অংশীদার, তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। কিন্তু বোর্ডেরও নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকা উচিত।
তিনি আরও যোগ করেন,৯০–৯৫ শতাংশ অর্থ আমরা আইসিসি থেকে পাই। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে যে সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ক্রিকেট উপকৃত হবে, সেটাই নেওয়া দরকার।
এই বক্তব্যসমৃদ্ধ ফটোকার্ড শেয়ার করেই বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলাম তামিমকে লক্ষ্য করে ওই বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
বিসিবি নির্বাচন ঘিরে পুরোনো বিতর্ক
উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর বিসিবির নির্বাচনে ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে ট্যালেন্ট হান্ট ক্রিকেট একাডেমির কাউন্সিলর হিসেবে ৩৭ ভোট পেয়ে পরিচালক নির্বাচিত হন নাজমুল ইসলাম। পরদিনই বোর্ড সভায় তাকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়।
ওই নির্বাচন ঘিরেও তখন ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টার প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে। ‘নির্বাচন ফিক্সিং’-এর অভিযোগ তুলে তামিম ইকবাল মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। একই অভিযোগে নির্বাচনের আগে সরে দাঁড়ান মোট ২১ জন প্রার্থী। এমনকি ভোটের আগেই ৯ জন পরিচালক নির্বাচিত হয়ে যাওয়ার অভিযোগও ওঠে।
প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশিত
বিসিবির এক পরিচালকের এমন মন্তব্যকে অনেকেই অশালীন, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিভাজনমূলক বলে আখ্যা দিয়েছেন। এ ঘটনায় বিসিবি বা নাজমুল ইসলামের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা বা দুঃখ প্রকাশ আসবে কি না—সে দিকেই এখন নজর ক্রিকেটপ্রেমীদের।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি