স্টাফ রিপোর্টার: ক্ষমতার ভার জনগণের দিকে রাখতে চাইলে ভোটের পক্ষে স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই এমন মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশান–২ নগর ভবনে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক পদক প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহমুদুল হাসান, লেখক ও গণবুদ্ধিজীবী সলিমুল্লাহ খান এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ অন্যান্যরা।
রিজওয়ানা হাসান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন নাগরিকদের দুটি ভোট দিতে হবে একটি সংসদ নির্বাচনে, অন্যটি গণভোটে। সংসদ নির্বাচনে কাকে ভোট দেওয়া হচ্ছে, সে সিদ্ধান্ত ভেবেচিন্তে নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আফসোস না করতে হয়।
তিনি বলেন, একই দিনে অনুষ্ঠিত গণভোটটি দেশের ভবিষ্যৎ ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে বড় সিদ্ধান্ত হয়ে থাকবে। যদি সত্যিই সংস্কার চান, তাহলে সেই সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে। নিষ্ক্রিয় থাকলে বা স্পষ্ট মত না দিলে ক্ষমতার ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা আরও বহু বছরের জন্য হারিয়ে যেতে পারে।
গণভোটের প্রস্তাবনাগুলো সম্পর্কে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন নোট ও ব্যাখ্যা প্রস্তুত করে জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। এগুলো পড়তে হবে, বুঝতে হবে এবং তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সংস্কার শুধু কথায় নয়, ভোটের মাধ্যমেই বাস্তবায়ন করতে হবে।
প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন আইন অনুযায়ী প্রশাসন বা সরকারের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী ভোট চাইতে পারবেন না; তাদের নিরপেক্ষতা ও নির্বাচনী আইনের বাধ্যবাধকতার কারণে সরকারি পদে থেকে প্রকাশ্যে ভোট চাওয়া গুরুতর অপরাধ, যা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে।
উল্লেখ্য, আসন্ন গণভোটকে কেন্দ্র করে শুধু পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানই নন, এর আগে প্রধান উপদেষ্টাসহ আরো বেশ কয়েকজন উপদেষ্টা ও সরকারি কর্মকর্তারা গণভোটের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছেন। এছাড়া প্রধান উপদেষ্টার ‘হ্যাঁ’ ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে সমালোচনার পরিপেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার হ্যাঁ ভোট চাইতে পারে এবং এর পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারে, এতে আইনগত কোনো বাধা নেই।’
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব