| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরানে ‘কঠোর’ পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, সামরিক বিকল্প বিবেচনায়

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ১২, ২০২৬ ইং | ১০:০৫:৪৫:পূর্বাহ্ন  |  ৭৯৪২৯৮ বার পঠিত
ইরানে ‘কঠোর’ পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, সামরিক বিকল্প বিবেচনায়

ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ও ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। বরং পরিস্থিতি বিবেচনায় ‘কঠোর সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১১ জানুয়ারি) এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই হুঁশিয়ারি দেন। ইরানে বিক্ষোভ দমনে ব্যাপক প্রাণহানির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “দেখে মনে হচ্ছে, তারাই (ইরান) সীমা লঙ্ঘন করেছে।” সাংবাদিকেরা জানতে চান, ইরান কি লাল রেখা অতিক্রম করেছে। জবাবে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।

ট্রাম্প আরও বলেন, আমরা পুরো পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। আমাদের সামরিক বাহিনীও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কয়েকটি কঠিন বিকল্প আমাদের সামনে আছে এবং সময় হলে আমরা সিদ্ধান্ত নেব।

এরই মধ্যে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা ৫৩৮ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ)। নিহতদের বেশিরভাগই বিক্ষোভকারী বলে দাবি করা হয়েছে। এই তথ্যের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানালেও তারা নিহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। ইরান সরকারও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেনি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার হুঁশিয়ারির জবাবে কড়া বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরান সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ভূখণ্ডে হামলা চালায়, তবে এর জবাবে ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনকে ‘ভুল হিসাব-নিকাশ’ না করার আহ্বান জানিয়েছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

চলমান বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে প্রতিদিনই বাড়ছে প্রাণহানির সংখ্যা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার গত বৃহস্পতিবার থেকে ইরানে প্রায় সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে। এতে দেশটির প্রকৃত পরিস্থিতির তথ্য পাওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বিক্ষোভ প্রসঙ্গে বলেছেন, প্রতিবাদ জনগণের অধিকার, তবে দাঙ্গাবাজদের সমাজকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেওয়া যাবে না। তিনি আরও বলেন, জনগণের বিশ্বাস রাখা উচিত যে সরকার ন্যায় প্রতিষ্ঠার দিকেই এগোচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালের পর এটিই ইরানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন। মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর এই বিক্ষোভ শুরু হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে এবং আন্দোলনকারীরা বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান দাবি করছেন।

এই প্রেক্ষাপটে গত কয়েক দিনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একাধিকবার ইরানে ‘হস্তক্ষেপের’ ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ বন্ধে ইরানি নেতৃত্বকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে বিক্ষোভকারীদের পাশে দাঁড়াতে প্রস্তুত।



রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪