আন্তর্জাতিক ডেস্ক: প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারে এবং তিনি বিরোধী পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। তিনি একাধিক শক্তিশালী বিকল্প বিবেচনা করছেন, যার মধ্যে সামরিক পদক্ষেপও রয়েছে, ইরানে চলমান প্রটেস্ট ও বিক্ষোভের প্রতিক্রিয়ায়। এই বিক্ষোভগুলো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের শাসনের জন্য ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সোমবার তেহরানে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, আমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত, তবে সংলাপের জন্যও উন্মুক্ত।
ট্রাম্প সতর্ক করেছেন যে, যদি নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়, যুক্তরাষ্ট্র ব্যবস্থা নেবে। মানবাধিকার সংস্থা HRANA জানিয়েছে, ৪৯০ বিক্ষোভকারী ও ৪৮ নিরাপত্তা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, এবং ১০,৬০০ এর বেশি মানুষ আটক হয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তিনি বলেন, ইরান আলোচনা করতে চাচ্ছে, আমরা হয়তো তাদের সঙ্গে দেখা করব। তবে বৈঠকের আগে পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতেও হতে পারে।
ইরানি সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানে আক্রমণের ক্ষেত্রে, (ইসরায়েল) অধিষ্ঠিত অঞ্চল এবং সব মার্কিন ঘাঁটি ও জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্য হবে।
বিক্ষোভগুলো ২৮ ডিসেম্বর শুরু হয়েছিলে মূলত জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে, পরে এটি ধর্মীয় শাসকদের বিরোধে পরিণত হয়। রাষ্ট্রীয় টিভি সম্প্রচার করেছে নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য উৎসর্গীকৃত শোকসভা এবং সরকারপক্ষের সমর্থক বিক্ষোভ।
ইরানি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে এবং সোমবার দেশব্যাপী সমাবেশে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় তথ্য প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে স্টারলিংক স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট পুনরায় চালু করতে এলন মাস্কের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন।
ইরান-ইসরায়েল সম্পর্ক এবং গত বছরের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশটির রাজনৈতিক অবস্থান কিছুটা দুর্বল। তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, এই বিক্ষোভগুলো সম্ভবত সরকারকে স্থায়ীভাবে উৎখাত করতে পারবে না। রয়টার্স
রিপোর্টার্স২৪/এসসি