অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী গ্রামের শিপা মনি পরিশ্রমের মাধ্যমে স্বপ্নের আলো জ্বালিয়ে এখন আত্মনির্ভরশীল। তিনি কৃষি, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি পালন, মাশরুম চাষ করে পরিণত হয়েছেন একজন সফল নারী উদ্যোক্তায়। স্বীকৃতি পেয়েছেন অভয়নগর উপজেলার অদম্য নারী হিসাবে।
তার উদ্যোক্তা হওয়ার শুরুটা ছিল খুবই সাধারণ। এক সময় তিনি শখে মাশরুম চাষের পাশাপাশি হাতে নকশীকাঁথা সেলাই করে বাজারজাত করতেন। ধীরে ধীরে তিনি মনোযোগ দেন মুরগী পালনের ব্যবসায়। বর্তমানে তার খামারে প্রায় দুই শতাধিক মুরগি রয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ৭০ থেকে ৮০টি ডিম পাওয়া যায়। মাস শেষে ডিম উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় ২,১০০টি।
ডিম উৎপাদনের পাশাপাশি তার খামারে রয়েছে দুটি ডিম ফোটানোর মেশিন (ইনকিউবেটর)। একটিতে নিজের খামারের ডিম ফুটিয়ে ক্ষুদ্র খামারিদের কাছে বাচ্চা বিক্রি করেন। অন্যটিতে প্রতিবেশীদের ডিম দিয়ে বাচ্চা ফুটিয়ে দেন। এ খাত থেকেও তিনি উল্লেখযোগ্য আয় করেন।
এছাড়াও তার গবাদিপশুর খামারে রয়েছে আটটি ছাগল ও চারটি গরু। গবাদি পশু পালন থেকে প্রতিবছর তার প্রায় চার লাখ টাকার মতো মুনাফা হয়। পাশাপাশি তিনি তার বাগানে বানিজ্যিকভাবে চুইঝাল ও বস্তায় আদা চাষ করেন।
অন্যদিকে, তার বাড়িতে রয়েছে বড়ি (কুমড়া বড়ি) তৈরির মেশিন ও ফিশফিড (পোল্ট্রি ফিড) তৈরির মেশিন। মেশিন দুটি দিয়ে তিনি নিজের খামারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি প্রতিবেশীদের সহায়তাও করেন। এখান থেকেও তিনি আয় করেন।
মোট আয়ের হিসাবে দেখা যায়, বিভিন্ন খাত থেকে তিনি মাসে প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকারও বেশি উপার্জন করেন। এই আয় দিয়েই তিনি সংসারের ব্যয় নির্বাহের পাশাপাশি সন্তানের পড়াশোনার খরচ চালান এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয়ও রাখেন।
তার এই সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে আশপাশের অনেক নারী এখন নিজ নিজ উদ্যোগে ছোট খামার ও হস্তশিল্পে যুক্ত হচ্ছেন। তিনি সময় সুযোগে নারীদের নকশিকাঁথা তৈরি ও হাঁস-মুরগি পালনের প্রশিক্ষণ দেন।
সফল উদ্যোক্তা শিপা মনি বলেন, “মহিলারা যদি ঘরে বসে না থেকে সামান্য পরিশ্রম করেন, তবে সংসার ও সমাজের চিত্র বদলাতে পারে।”
অভয়নগরের এই নারী উদ্যোক্তার গল্প প্রমাণ করে, সাহস, অধ্যবসায় ও আত্মনির্ভরতা থাকলে গ্রামীণ নারীরাও হতে পারেন সফল ব্যবসায়ী ও সমাজ বদলের পথিকৃৎ।
অভয়নগর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রাজ কুমার পাল বলেন, “শিপা মনি তার পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার সফলতা দেখে সমাজের আরও নারীরা অনুপ্রাণিত হবেন। সেই জন্য আমরা তাকে অদম্য নারী হিসাবে সম্মাননা প্রদান করেছি। আমরা আশা করবো সমাজের আরও নারীরা নিজেকে উদ্যোক্তা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করুক।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন