রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: ২০২৬ সালের শুরু থেকেই বৈশ্বিক রাজনীতিতে অস্থিরতা, সংঘাত ও অনিশ্চয়তার আবহ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন বুলগেরিয়ার কিংবদন্তি ভবিষ্যৎদ্রষ্টা বাবা ভাঙ্গা। তার অনুসারীদের দাবি, বহু বছর আগেই তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন ২০২৬ সাল হবে পৃথিবীর জন্য ‘যুদ্ধ ও ধ্বংসের’ বছর।
বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে তার কথিত পূর্বাভাসের মিল খুঁজে পাচ্ছেন অনেকে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে আটক, ইরানে ব্যাপক গণবিক্ষোভ এবং গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী অবস্থানের মতো ঘটনাগুলোর সঙ্গে বাবা ভাঙ্গার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ সংক্রান্ত ভবিষ্যদ্বাণীর সাযুজ্য টানছেন তার অনুসারীরা।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ভিনগ্রহীদের প্রসঙ্গ
নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাবা ভাঙ্গা শুধু বৈশ্বিক যুদ্ধের কথাই নয়, বরং ২০২৬ সালে ভিনগ্রহের প্রাণীর সঙ্গে মানুষের প্রথম যোগাযোগ ঘটতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়ে গেছেন।
এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলো নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোড়ন তুলেছে। টিকটক, এক্স (সাবেক টুইটার) ও ইউটিউবে হাজারো ভিডিওতে তার বক্তব্য বিশ্লেষণ ও পুনরাবৃত্তি করা হচ্ছে।
কে এই বাবা ভাঙ্গা?
বাবা ভাঙ্গা নামে পরিচিত এই নারীর প্রকৃত নাম ভ্যাঞ্জেলিয়া পান্ডেভা গুশতেরোভা। জন্ম ১৯১১ সালে, বুলগেরিয়ায়। মাত্র ১২ বছর বয়সে এক ভয়াবহ টর্নেডোর কবলে পড়ে তিনি দৃষ্টিশক্তি হারান। তার ভক্তদের বিশ্বাস, এই অন্ধত্বই তার আধ্যাত্মিক ‘দিব্যচক্ষু’ খুলে দেয়।
প্রথাগত কোনো শিক্ষা না থাকলেও তিনি ধীরে ধীরে এতটাই প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন যে রাষ্ট্রনেতারাও নাকি তার পরামর্শ নিতে যেতেন। ১৯৯৬ সালে ৮৫ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়।
যে পূর্বাভাসগুলো তাকে কিংবদন্তি করেছে
যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলা
প্রিন্সেস ডায়ানার মৃত্যু
চেরনোবিল পারমাণবিক বিপর্যয়
বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে চীনের উত্থান
এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর কারণে তাকে ঘিরে রহস্য ও কৌতূহল আরও গভীর হয়েছে।
২০২৬ সাল নিয়ে সতর্কবার্তা
বাবা ভাঙ্গা ২০২৬ সালের জন্য মূলত তিনটি বড় বিপদের কথা বলেছিলেন—
বড় শক্তিগুলোর মধ্যে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সূচনা
ভয়াবহ ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ
বিশ্বব্যাপী চরম অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা
বর্তমান বৈশ্বিক উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েনের সঙ্গে এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর মিল খুঁজে পাচ্ছেন তার অনুসারীরা।
সব ভবিষ্যদ্বাণী কি সত্য?
যদিও বাবা ভাঙ্গার অনেক অনুমান আলোচিত ও আংশিকভাবে সত্য প্রমাণিত হয়েছে, তবে সব ভবিষ্যদ্বাণী সঠিক হয়নি। যেমন ২০১০ সালে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হওয়ার যে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবে ঘটেনি।
তবুও তার অনুসারীরা মনে করেন, ২০২৮ সালে শুক্র গ্রহে মানব অভিযান কিংবা ২০৩৩ সালে মেরু অঞ্চলের বরফ গলার মতো দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসগুলো বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
দূর ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম পূর্বাভাস
বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর মধ্যে রয়েছে—
২০৭৬ সালে বিশ্বব্যাপী সাম্যবাদের প্রসার
৩৭৯৭ সালে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়া
এমনকি ৫০৭৯ সালে পৃথিবীর সম্পূর্ণ ধ্বংস
এই সুদূরপ্রসারী ভবিষ্যদ্বাণীগুলো আজও রহস্য ও বিতর্কের জন্ম দেয়।
বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি
বিশ্লেষক ও বিজ্ঞানীরা বাবা ভাঙ্গার ভবিষ্যদ্বাণীগুলোকে মূলত কাকতালীয় ঘটনা বা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে দেখেন। তাদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক সংকট ও অনিশ্চয়তার কারণেই মানুষ পুরনো এই ভবিষ্যদ্বাণীগুলোর মধ্যে নতুন করে অর্থ খুঁজছে।
তবুও ২০২৬ সালকে ঘিরে তার ‘যুদ্ধ ও ধ্বংসের’ বার্তা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ, কৌতূহল ও আলোচনার জন্ম দিচ্ছে—যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
রিপোর্টার্স২৪/এসসি