| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

বাংলাদেশের তিন পাশে পাঁচটি বিমানঘাঁটি সচল করছে ভারত

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ ইং | ১৪:০৯:২২:অপরাহ্ন  |  ৭৭৮০৪৯ বার পঠিত
বাংলাদেশের তিন পাশে পাঁচটি বিমানঘাঁটি সচল করছে ভারত
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে আঞ্চলিক যোগাযোগ জোরদার এবং কৌশলগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার পাঁচটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি বা এয়ারস্ট্রিপ পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত সরকার। পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরায় অবস্থিত এই বিমানঘাঁটিগুলো সংস্কারের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব বিমানঘাঁটি সচল করার মূল লক্ষ্য ভারতের অত্যন্ত স্পর্শকাতর ‘শিলিগুড়ি করিডর’ বা ‘চিকেনস নেক’-এর নিরাপত্তা জোরদার করা। এই করিডরটি মূলত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে দেশটির মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থলসংযোগ পথ, যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এমন এক সময়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যখন প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ক ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করছে। ফলে নয়াদিল্লি এই করিডরের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে রাজি নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের রংপুর বিভাগের লালমনিরহাট বিমানঘাঁটি পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ ভারতের এই তৎপরতার একটি বড় কারণ। লালমনিরহাট বিমানঘাঁটিটি শিলিগুড়ি করিডরের খুব কাছাকাছি হওয়ায় ভারতীয় সামরিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বিমানঘাঁটিটি শুধুমাত্র জাতীয় প্রয়োজনে ব্যবহৃত হবে।

তবে ভারতীয় সূত্রের দাবি, সীমান্ত এলাকায় যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতও তার সামরিক প্রস্তুতি নতুন করে ঢেলে সাজাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ‘লাচিত বরফুকন’ নামে তিনটি নতুন সেনাঘাঁটি স্থাপন করা হয়েছে। পাঁচটি পরিত্যক্ত এয়ারস্ট্রিপ পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনাও এই সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী যেসব বিমানঘাঁটি সংস্কার করা হবে, সেগুলো হলো—পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ির আমবাড়ি ও পাঙ্গা,দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট,মালদহের ঝালঝালিয়া,এবং আসামের ধুবড়ি।

এর আগে পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার এবং আসামের রূপসী বিমানবন্দর সফলভাবে সচল করা হয়েছে।

বর্তমানে এয়ারপোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এএআই) পশ্চিমবঙ্গের এসব বিমানক্ষেত্রের দায়িত্ব রাজ্য সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত সেনা মোতায়েন ও রসদ সরবরাহের জন্য এসব রানওয়ে সবসময় অপারেশনাল প্রস্তুত অবস্থায় রাখাই ভারতের লক্ষ্য।

তবে প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো জানিয়েছে, দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় এসব বিমানঘাঁটি পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে বেশ কিছু কারিগরি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অনেক জায়গায় রানওয়ে ভেঙে গেছে, কোথাও ঘন জঙ্গল গড়ে উঠেছে, আবার কিছু এলাকায় রানওয়ের আশপাশে জনবসতি তৈরি হয়েছে।

ফলে বড় যুদ্ধবিমান পরিচালনার জন্য এই মুহূর্তে বিমানঘাঁটিগুলো উপযুক্ত না হলেও, সামান্য সংস্কারের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে হেলিকপ্টার ও ছোট সামরিক বিমান ওঠানামার উপযোগী করে তোলার কাজ চলছে।

সীমান্তের ওপারে চলমান ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কৌশলগত প্রতিরক্ষা পরিকাঠামো নির্মাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে নয়াদিল্লি। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪