| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

সরকারের অনুকূলে ২০৩.৪৭ কোটি টাকার চেক হস্তান্তর

শিপিং কর্পোরেশনকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরে রাখতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ১৪, ২০২৬ ইং | ১৪:৩৯:৪২:অপরাহ্ন  |  ৯৫৫০৪৭ বার পঠিত
শিপিং কর্পোরেশনকে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ধরে রাখতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

সিনিয়র রিপোর্টার: প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি)কে একটি শক্তিশালী ও লাভজনক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকিয়ে রাখতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে বিএসসি যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা যেন ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে বজায় থাকে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিএসসি কর্তৃক সরকারের অনুকূলে ২০৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন বাস্তবায়িত ৬টি জাহাজ ক্রয় প্রকল্পের জন্য গৃহীত ঋণ পরিশোধের অংশ এবং ২০২৪–২০২৫ অর্থবছরে ঘোষিত লভ্যাংশ বাবদ এই অর্থ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন ও বিএসসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক প্রধান উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চেক হস্তান্তর করেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিএসসি যেভাবে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে, সেই ধারা ধরে রাখতে হবে। ভবিষ্যতে এমন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যাতে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব আয়ের মাধ্যমেই বিএসসি আরও শক্তিশালী হয় এবং বহরে নতুন নতুন জাহাজ যুক্ত করা যায়।

তিনি আরও বলেন, বিএসসি’র বহরে নতুন জাহাজ যুক্ত হলে নাবিকদের মধ্যে উৎসাহ বাড়বে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি মেরিন একাডেমিগুলোর প্রশিক্ষকদের যথাযথ সম্মানী ও সুযোগ-সুবিধা দিয়ে ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি, যাতে বিশ্বমানের নাবিক তৈরি করা সম্ভব হয়।

এ সময় বিএসসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, জি-টু-জি ভিত্তিতে ছয়টি জাহাজ ক্রয়ের লক্ষ্যে বাস্তবায়িত প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ সরকার (অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ) ও চীন সরকার (চায়না এক্সিম ব্যাংক)-এর মধ্যে ২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ ঋণের মূল অর্থের পরিমাণ ছিল ১,১৯৯,৯৯৯,০৭০ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১,৪৫৭ কোটি ৬৭ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮৫ টাকা।

এই ঋণ পরিশোধের জন্য ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর অর্থ বিভাগ ও বিএসসি’র মধ্যে একটি Subsidiary Loan Agreement (SLA) স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, মোট ২,৪২৫.০২ কোটি টাকা ১৩ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারকে পরিশোধ করবে বিএসসি।

তিনি জানান, স্বাক্ষরিত SLA অনুযায়ী গ্রেস পিরিয়ডকালীন সুদের পরিমাণ ৪৭৫ কোটি ২৫ লাখ ১৩ হাজার ৩৪০ টাকার একটি চেক ইতোমধ্যে গত ২৬ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রকল্পটির মাধ্যমে দীর্ঘ ২৭ বছর পর, ২০১৮–১৯ অর্থবছরে বিএসসি’র বহরে ছয়টি নতুন বাণিজ্যিক জাহাজ যুক্ত হয়। এসব জাহাজের মধ্যে পাঁচটি এমভি বাংলার জয়যাত্রা, এমভি বাংলার অর্জন, এমটি বাংলার অগ্রযাত্রা, এমটি বাংলার অগ্রদূত ও এমটি বাংলার অগ্রগতি বর্তমানে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে সক্রিয়ভাবে নিয়োজিত রয়েছে এবং বাংলাদেশের পতাকা বহন করে চলেছে।

উল্লেখ্য, ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বশেষ অর্থবছরে বিএসসি প্রায় ৮০০ কোটি টাকা আয় করে সর্বোচ্চ ৩০৬.৫৬ কোটি টাকা মুনাফা অর্জন করেছে। এই সাফল্যে প্রকল্পের মাধ্যমে বহরে যুক্ত পাঁচটি জাহাজের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনার আলোকে বিএসসি ইতোমধ্যে নতুন জাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে দুইটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজ সংগ্রহের অংশ হিসেবে প্রথম জাহাজ ‘বাংলার প্রগতি’ গত ২৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে ডেলিভারি গ্রহণ করে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে। দ্বিতীয় জাহাজ ‘বাংলার নবযাত্রা’ আগামী ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ডেলিভারির জন্য নির্ধারিত রয়েছে।

এছাড়া সরকারি অর্থায়নে দুইটি এমআর প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার, নিজস্ব অর্থায়নে একটি আল্ট্রাম্যাক্স বাল্ক ক্যারিয়ার এবং চীন থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে আরও চারটি বড় মাদার ভেসেল সংগ্রহের পরিকল্পনাসহ একাধিক নতুন জাহাজ অধিগ্রহণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪