ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেট: আগামী সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের জন্য সব ধরনের মার্কিন ইমিগ্র্যান্ট ভিসা প্রসেসিং স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের নির্দেশনায় এই স্থগিতাদেশ আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী পুনর্মূল্যায়ন না হওয়া পর্যন্ত তা বহাল থাকবে।
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের বরাত দিয়ে ফক্স নিউজ এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পাবলিক চার্জ’ আইনের আওতায় ভিসা আবেদনকারীদের যোগ্যতা নতুন করে মূল্যায়নের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই আইনের আওতায় যাদের ভবিষ্যতে মার্কিন সরকারের ভাতা বা সামাজিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তাদের ভিসা বাতিল করা যেতে পারে।
নতুন নির্দেশনায় আবেদনকারীদের বয়স, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, আর্থিক সক্ষমতা, কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা প্রয়োজন আছে কি না এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হবে।
স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগগট বলেন,আমরা আমাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে যাচাই করব কোনো বিদেশি নাগরিক মার্কিন সমাজে অতিরিক্ত সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন কি না। যাদের ক্ষেত্রে এমন আশঙ্কা থাকবে, তাদের ভিসা দেওয়া হবে না।
২০০২ সালের বিধান অনুযায়ী ‘পাবলিক চার্জ’ বিবেচনায় কনস্যুলার কর্মকর্তারা ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে পারেন। তবে ২০১৯ সালে তৎকালীন ট্রাম্প প্রশাসন এই নীতির পরিধি আরও বিস্তৃত করে। পরে বাইডেন প্রশাসন সেই কঠোরতা কিছুটা শিথিল করেছিল। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন আবার নতুন করে পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলো।
স্থগিতাদেশ পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে; বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইরান, আফগানিস্তান, কুয়েত, রাশিয়া, থাইল্যান্ড, নাইজেরিয়া, সোমালিয়া, ইরাক, ব্রাজিল, নেপাল, মিয়ানমার, লেবানন, লিবিয়া, সিরিয়া, সুদান, ইয়েমেনসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের মোট ৭৫টি দেশ।
এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর হাজারো অভিবাসনপ্রত্যাশী আবেদনকারী অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। কবে নাগাদ পুনর্মূল্যায়ন শেষ হবে বা ভিসা কার্যক্রম আবার চালু হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি