রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ভেতরে ব্যবহৃত পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় প্রার্থীর নাম ও প্রতীক একসঙ্গে যুক্ত করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে আনুষ্ঠানিক ও সুস্পষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরেছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ।
তিনি বলেন, দেশের অভ্যন্তরে পোস্টাল ব্যালটই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হবে। সে কারণে প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় যেসব ব্যালটে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীকসহ সাধারণ ব্যালট ব্যবহার করা হয়, সেই একই ব্যালট সংশ্লিষ্ট এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। এতে প্রতিটি নির্বাচনি এলাকার জন্য আলাদা আলাদা প্রতীকসংবলিত ব্যালট ছাপানোর প্রয়োজন হবে না এবং জটিলতাও কমবে।
সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সব প্রতীকসহ পোস্টাল ব্যালট সব কনস্টিটুয়েন্সিতে পাঠানো বাস্তবসম্মত নয় এবং দেশের ভেতরে তা সম্ভবও নয়। প্রত্যেকটি নির্বাচনি এলাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সব প্রার্থীর নাম ও প্রতীকসহ যে সাধারণ ব্যালট ব্যবহৃত হয়, সেটিকেই পোস্টাল ব্যালট হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা বিষয়টি বিবেচনায় নেবে।
এ সময় তিনি পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন ও বিদেশে প্রেরণের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের সামনে তুলে ধরেন এবং এর ব্যাখ্যা দাবি করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবাসীদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালটের ক্ষেত্রে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যাচ্ছে কোথাও একটি বাসা থেকে ২০০ থেকে ৩০০টি ব্যালট উদ্ধার হচ্ছে, কোথাও ব্যালট জব্দ করা হয়েছে, আবার কোথাও ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেছে। যদিও ভোট হওয়ার কথা ২২ জানুয়ারি। এমনকি এমন ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে একজনের ভোটার নম্বর দিয়ে অন্য ব্যক্তি ব্যালট গ্রহণ করছেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় অনিয়মের কারণে বিএনপি সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের এই পদ্ধতি বাংলাদেশে প্রথমবার চালু হওয়ায় কিছু ত্রুটি থাকতে পারে, তবে যেসব অনিয়ম সামনে আসছে, তাতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে পক্ষপাতমূলক কার্যক্রম হয়েছে বলে বিএনপির আশঙ্কা এখন বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে।
ভোটার স্লিপ প্রসঙ্গে সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে হলে প্রক্রিয়াটি সহজ করতে হবে। ভোটার স্লিপে যদি ভোটারের নম্বরের পাশাপাশি প্রার্থীর নাম ও প্রতীক উল্লেখ থাকে, তাহলে ভোটারদের জন্য ভোট দেওয়া সহজ হয়। অথচ বর্তমান আচরণবিধিতে ভোটার স্লিপে দলের নাম, প্রতীক বা প্রার্থীর ছবি না দেওয়ার বিধান রয়েছে, যা পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।
তিনি আরও বলেন, আচরণবিধি পরিবর্তনের এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের হাতেই রয়েছে। ভোটার স্লিপ দেওয়া মানেই ভোটে প্রভাব নয়। ভোটার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে কাকে ভোট দেবে। আমরা নির্বাচনকে কঠিন করতে চাই না, সহজ করতে চাই যাতে অধিকাংশ ভোটার নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম