| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

এবার কোয়ান্টাম অস্ত্র নির্মাণের পথে চীন

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ১৫, ২০২৬ ইং | ২০:৩৯:৩৫:অপরাহ্ন  |  ৭৬০৮৭৫ বার পঠিত
এবার কোয়ান্টাম অস্ত্র নির্মাণের পথে চীন
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ভবিষ্যৎ যুদ্ধের ধরন আমূল বদলে দিতে কোয়ান্টাম অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে চীন। দেশটির সামরিক বাহিনী পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) জানিয়েছে, কোয়ান্টামভিত্তিক অন্তত ১০টির বেশি পরীক্ষামূলক সাইবার যুদ্ধ সরঞ্জাম বর্তমানে উন্নয়নাধীন রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ইতোমধ্যে ‘ফ্রন্টলাইন মিশনে’ পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

চীনা সামরিক সূত্রগুলোর দাবি, এসব কোয়ান্টাম অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবে। একই সঙ্গে প্রচলিত রাডার ব্যবস্থায় ধরা না পড়া স্টেলথ বিমান শনাক্ত করাসহ আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার করার সক্ষমতাও থাকবে এসব প্রযুক্তিতে।

চীনা সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, এই প্রকল্পটির নেতৃত্ব দিচ্ছে ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব ডিফেন্স টেকনোলজির একটি সুপারকম্পিউটিং ল্যাবরেটরি। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং কোয়ান্টাম প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত দৈনিক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ডেইলি–এর তথ্যের ভিত্তিতে এ খবর প্রকাশ করেছে হংকংভিত্তিক ইংরেজি সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

সামরিক কমান্ডারদের প্রত্যাশা, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ব্যবহারের মাধ্যমে যুদ্ধক্ষেত্রের জটিল ও বিশাল তথ্য কয়েক সেকেন্ডে বিশ্লেষণ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সম্পদ বণ্টন সম্ভব হবে। একই সঙ্গে কোয়ান্টাম সেন্সিং ও অবস্থান নির্ধারণ প্রযুক্তি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই প্রযুক্তির সাহায্যে এমন স্টেলথ বিমান শনাক্ত করা সম্ভব হবে, যেগুলো প্রচলিত রাডার ব্যবস্থার চোখ এড়িয়ে যেতে সক্ষম।

চীনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, উন্মুক্ত সাইবারস্পেস থেকে উচ্চমূল্যের সামরিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহেও কোয়ান্টাম প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোয়ান্টামভিত্তিক অত্যন্ত নির্ভুল নেভিগেশন ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব, যা স্পুফিং বা জ্যামিংয়ের মতো ইলেকট্রনিক হামলার বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সামরিক কর্মকর্তা বলেন, নতুন সাইবার অস্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে ‘দ্রুততা ও অভিযোজন ক্ষমতা’ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তার ভাষায়,একটি কার্যকর অস্ত্র ডিজাইন করতে হলে আগে বুঝতে হবে—ভবিষ্যতের যুদ্ধ কেমন হবে।

পিএলএর ইনফরমেশন সাপোর্ট ফোর্সের গবেষক লিউ ওয়ে জানান, গবেষক দল সাইবার নিরাপত্তার ভিত্তিতে যুদ্ধক্ষেত্র সম্পর্কে নতুন সচেতনতা মডেল তৈরিতে কাজ করছে। তিনি বলেন,আমরা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব বজায় রেখে কাজ করছি, যাতে তাদের অপারেশনাল চাহিদা আরও ভালোভাবে পূরণ করা যায়।”

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ইউনিটের গবেষকেরা সামনের সারির সেনাদের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছেন, যাতে বাস্তব চাহিদা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। এক বছরের মধ্যে সংগৃহীত বিভিন্ন উৎসের তথ্য একত্র করে তারা একটি সমন্বিত পরিস্থিতি মানচিত্র তৈরি করেছেন।

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও সুপারকম্পিউটিং ইউনিটের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, অপারেশনাল চাহিদা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহারে সংবেদনশীলতা বজায় রাখা জরুরি।

প্রবন্ধে আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই ইউনিট যুদ্ধের ধরন, প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং প্রতিপক্ষের কৌশল পরিবর্তনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে মানিয়ে নিচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যপ্রযুক্তির সর্বাধুনিক প্রয়োগের মাধ্যমে তারা যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব প্রয়োজন পূরণে কাজ করে যাচ্ছে।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, গ্লোবাল টাইমস

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪