রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী সালেম বিন ব্রেইক পদত্যাগ করেছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন শায়া মোহসেন জিনদানি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে তিনি ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছিলেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সৌদি আরব-সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের কাছে সালেম বিন ব্রেইক পদত্যাগপত্র জমা দিলে তা গ্রহণ করা হয়। পদত্যাগ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শায়া মোহসেন জিনদানির নাম ঘোষণা করে কাউন্সিল।
২০১৪ সালে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা দখল করলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল হাদী সৌদি আরবে আশ্রয় নেন। হুথিদের প্রতিহত করা এবং মনসুর আল হাদীর সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরাতে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেনের সেনাবাহিনীকে নিয়ে একটি সামরিক জোট গঠন করা হয়।
২০১৫ সাল থেকে এই জোট হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। প্রায় এক দশক ধরে চলা এই সংঘাতে বর্তমানে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চল হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, আর দক্ষিণাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল।
এদিকে দক্ষিণ ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী সাউদার্ন ট্রানজিশন কাউন্সিলের (এসটিসি) উত্থানে প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল চাপে পড়ে। এসটিসিকে সহযোগিতা করা নিয়ে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যেও টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রিয়াদের আহ্বানে দক্ষিণ ইয়েমেন থেকে আমিরাত তাদের সেনা প্রত্যাহারে সম্মত হয়।
সম্প্রতি দক্ষিণ ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক অভিযান জোরদার হলে প্রাণ বাঁচাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আশ্রয় নেন এসটিসির প্রেসিডেন্ট এইদারুস আল জুবাইদি। এরপর থেকে দক্ষিণ ইয়েমেনে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়ে।
দক্ষিণাঞ্চলের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে আসার প্রেক্ষাপটেই ইয়েমেনের প্রধানমন্ত্রী পদে এই পরিবর্তন এলো।
সূত্র: এএফপি
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা