রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পর দেশটিতে শিশু বলে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৪৭ লাখ অ্যাকাউন্টের প্রবেশাধিকার বাতিল করেছে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানি। দেশটির কর্মকর্তারা শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার যোগাযোগমন্ত্রী অ্যানিকা ওয়েলস সাংবাদিকদের বলেন, “যারা বলেছিল এটা করা সম্ভব নয়, আমরা তাদেরকে প্রমাণ করেছি। এখন অস্ট্রেলিয়ান অভিভাবকরা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন যে, তাদের সন্তানরা নিরাপদে শৈশব কাটাতে পারবে।”
ডিসেম্বর মাসে আইনটি প্রণয়নের পর প্রথমবারের মতো ১০টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, কিক, রেডিট, স্ন্যাপচ্যাট, থ্রেডস, টিকটক, এক্স, ইউটিউব ও টুইচ সরকারকে যে তথ্য দিয়েছে, তার ভিত্তিতে এই অ্যাকাউন্ট বাতিলের ব্যাপকতা প্রকাশ করা হয়েছে।
আইনের আওতায়, যদি এই প্ল্যাটফর্মগুলো ১৬ বছরের কম বয়সী অস্ট্রেলিয়ান শিশুদের অ্যাকাউন্ট সরাতে যুক্তিসংগত পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সর্বোচ্চ ৪৯.৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার (প্রায় ৩৩.২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) জরিমানার মুখে পড়তে পারে। তবে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক মেসেঞ্জারের মতো মেসেজিং সেবা এই আইনের বাইরে রাখা হয়েছে।
বয়স যাচাইয়ের জন্য প্ল্যাটফর্মগুলো পরিচয়পত্রের কপি চাইতে পারে, মুখাবয়ব বিশ্লেষণভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে, অথবা অ্যাকাউন্ট কতদিন ধরে রয়েছে এ ধরনের বিদ্যমান তথ্য থেকে অনুমান করতে পারে।
অস্ট্রেলিয়ার ই-সেফটি কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট বলেন, “৮ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ২৫ লাখ শিশু রয়েছে, এবং আগের হিসাব অনুযায়ী ৮ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের ৮৪%–এরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ছিল। এখন ১০টি প্ল্যাটফর্মে মোট ৪৭ লাখ অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় বা সীমাবদ্ধ করা হয়েছে, যা সন্তোষজনক।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা নিশ্চিত করছি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো আমাদের শিশুদের কাছে অবৈধভাবে পৌঁছাতে পারবে না।”
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা