রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান এক্সএআই-এর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন মাস্কের এক সন্তানের মা, অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার। তার অভিযোগ, এক্সএআইয়ের এআই টুল গ্রোগ তার সম্মতি ছাড়া তাকে নিয়ে অশ্লীল, অপমানজনক এবং যৌন হয়রানিমূলক ডিপফেক ছবি তৈরি ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছে।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা মামলায় সেন্ট ক্লেয়ার জানিয়েছেন, এসব ডিপফেক ছবির মধ্যে এমন ছবিও রয়েছে, যেখানে তাকে অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, গ্রোগ এসব ছবি তৈরি বন্ধ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবে কার্যকর হয়নি। মামলায় ক্ষতিপূরণ ও দণ্ডমূলক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার একজন ডানপন্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সার, লেখক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার। ২০২৪ সালে তার ইলন মাস্কের সঙ্গে একটি পুত্রসন্তান জন্ম নেয়।
মামলার পক্ষে ভুক্তভোগীর আইনজীবী ক্যারি গোল্ডবার্গ বলেন, “এক্সএআই কোনোভাবেই নিরাপদ পণ্য নয়। এটি জনস্বার্থের জন্য ক্ষতিকর। গ্রোগ সম্মতিহীন, অবমাননাকর ও নির্যাতনমূলক ছবি তৈরি করে সেন্ট ক্লেয়ারকে হয়রানি করেছে। এই ক্ষতি ইচ্ছাকৃত নকশাগত সিদ্ধান্তের ফল।”
মামলায় আরও বলা হয়েছে, এক্স কর্তৃপক্ষ সেন্ট ক্লেয়ারকে নিয়ে প্রতিশোধমূলক আচরণ করেছে, তার এক্স অ্যাকাউন্টের আয়ের সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে এবং তার নামে আরও বেশি ডিপফেক ছবি তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ছবির মধ্যে রয়েছে যৌন ভঙ্গিতে উপস্থাপন, আংশিক নগ্নতা, এমনকি কিছু ছবি অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় তৈরি।
ইলন মাস্ক এক্সে জানিয়েছে, গ্রোগ ব্যবহার করে তৈরি ছবির দায় ব্যবহারকারীর। তিনি বলেছেন, “গ্রোগ নিজে কিছু তৈরি করে না, সবই ব্যবহারকারীর অনুরোধে হয়।” এক্স জানিয়েছে, শিশু যৌন শোষণ, সম্মতিহীন নগ্নতা ও অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন কনটেন্টের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি রয়েছে।
অ্যাশলি সেন্ট ক্লেয়ার জানান, তিনি নিজেকে ‘ভীত ও গভীরভাবে চিন্তিত’ মনে করছেন। তার মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সম্মতি। তিনি অভিযোগ করেছেন, মাস্কের কিছু সমর্থক তার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করছে।
মামলার বিষয়টি বর্তমানে নিউইয়র্কের সুপ্রিম কোর্টে বিবেচনার অপেক্ষায়।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
রিপোর্টার্স২৪/আয়েশা