রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে কি না সে বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত জানাবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন সংক্রান্ত শুনানি শেষে আদেশ ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেছে। আজকের আদেশের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে, এই মামলায় বিচার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে কিনা।
ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক বেঞ্চ এ আদেশ দেবেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলার সাতজন আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। ওবায়দুল কাদের ছাড়াও এ তালিকায় আছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
গত ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আদেশের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন। সেদিন প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তারা শুনানিতে জুলাই-আগস্টের আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ, উসকানি ও প্ররোচনার অভিযোগ তুলে ধরে বিচার শুরুর আবেদন জানান। পাশাপাশি ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আনা তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
অন্যদিকে, পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন। তারা দাবি করেন, মামলার অভিযোগের সঙ্গে তাদের মক্কেলদের কোনো ধরনের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা নেই। পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণের অভাব উল্লেখ করে তারা অভিযোগ গঠন না করে আসামিদের অব্যাহতির আবেদন জানান।
এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করলে ট্রাইব্যুনাল তা আমলে নেন। পরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও ২৯ ডিসেম্বর নির্ধারিত দিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামিদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়। এরপর ৩০ ডিসেম্বর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে তাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
৮ জানুয়ারি আত্মসমর্পণের শেষ তারিখ নির্ধারিত থাকলেও কোনো আসামি হাজির না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেন। আজকের আদেশের মাধ্যমেই এই মামলার বিচারিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে যাচ্ছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম