রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের জামিননামা এখনো কারাগারে না পৌঁছানোয় তার মুক্তি বিলম্বিত হচ্ছে। ফলে সোমবারও (২৬ জানুয়ারি) তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না।
সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদ জানান, সাদ্দামের জামিননামা কারাগারে পৌঁছালে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে মুক্তি দেওয়া হবে।
এর আগে স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী সন্তান হারানো সাদ্দামকে মানবিক বিবেচনায় ছয় মাসের জামিন দেন হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে তার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা।
আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা বলেন, বাগেরহাটের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাদ্দাম জামিন পেয়েছেন। অন্য মামলাগুলোতে তিনি আগে থেকেই জামিনে ছিলেন। তাই জামিননামা কারাগারে পৌঁছালে তার মুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই।
উল্লেখ্য, বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দাম বর্তমানে একাধিক মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। গত ২৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কারাগারের গেটে তাকে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য মৃত স্ত্রী ও ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্রকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। প্যারোল না পাওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহ কারাগারের গেটে নেওয়া হয়।
গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে ছিলেন সাদ্দাম। পরে গোপালগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকেই তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি।
এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে বাগেরহাট সদর উপজেলার বেখেডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের নিজ বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পাশেই পাওয়া যায় তাদের ৯ মাস বয়সী শিশুপুত্র নাজিমের মরদেহ। প্যারোলে মুক্তি না দেওয়ায় ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি