| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ধাওয়া, নিখোঁজ ও মরদেহ উদ্ধার: কী ঘটেছিল তুরাগে?

reporter
  • আপডেট টাইম: জুন ৩০, ২০২৬ ইং | ০৫:৫২:২৫:পূর্বাহ্ন  |  ৪৫৪ বার পঠিত
ধাওয়া, নিখোঁজ ও মরদেহ উদ্ধার: কী ঘটেছিল তুরাগে?

স্টাফ রিপোর্টার: আশুলিয়া বাজারসংলগ্ন তুরাগ নদে গত ২২ জুন পুলিশের ধাওয়া খেয়ে কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন— সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন আলোচনাকে পুলিশ ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘গুজব’ বলে দাবি করলেও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সেদিন আশুলিয়া বাজারের গরুর হাটসংলগ্ন ঘাটে একটি ট্রলার ভিড়তে গেলে পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে ছুটে যান। এ সময় ট্রলারে থাকা কয়েকজন আতঙ্কিত হয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন। স্থানীয়রা তাদের মধ্যে কয়েকজনকে উদ্ধার করলেও আরও কয়েকজন স্রোতে ভেসে যান বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে আশুলিয়া থানা পুলিশ বলছে, ওইদিন সেখানে কোনো ধাওয়া বা নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের একটি মিছিল থেকে সাতজনকে আটক করা হয়েছিল।

এদিকে ঘটনার পরবর্তী কয়েক দিনে তুরাগ নদ থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একজন ছিলেন তুরাগের রানাভোলা এলাকার বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী মো. সুমন। এছাড়া রনি মোল্লা ও আরিফ হাসান রাকিব নামের আরও দুই ব্যক্তির মরদেহও পৃথক সময়ে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা ২২ জুনের ঘটনার কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। সুমনের ক্ষেত্রে পুলিশ জানিয়েছে, তিনি বন্ধুদের সঙ্গে নদীতে বেড়াতে গিয়ে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন। এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।

তবে সুমনের স্বজনদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, সুমন নিখোঁজ হওয়ার পর তারা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করলেও পুলিশ তাদেরকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া বা তলিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কিছু জানায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, তারা পুলিশের কাছে সুমনের পিকনিকে যাওয়ার তথ্য দেননি।

ঘটনাস্থলের কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ট্রলার থেকে নদীতে ঝাঁপ দেওয়া কয়েকজনকে তারা নিজেরাই উদ্ধার করেছিলেন। পরে পুলিশ তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে আটক করে নিয়ে যায়। তবে ঠিক কতজন নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন বা কেউ নিখোঁজ হয়েছিলেন কি না, সে বিষয়ে তারা সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি।

পুলিশ সদরদপ্তর গত শনিবার এক বিবৃতিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ‘তুরাগে সাতজনের মৃত্যু’ সংক্রান্ত তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে। পরদিন সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা জেলা পুলিশের কর্মকর্তারাও একই বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করেন।

ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

অন্যদিকে, ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, তাদের আওতাধীন তুরাগ থানা এলাকায় ধারাবাহিকভাবে কোনো মৃতদেহ উদ্ধার বা এ ধরনের হত্যাকাণ্ডের তথ্য নেই।

ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনও একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে জড়িয়ে প্রচারিত বিভিন্ন তথ্যকে ‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন। তবে তিনি উল্লেখ করেন, পুলিশি অভিযানের সময় নৌকায় থাকা কয়েকজন ব্যক্তি আতঙ্কিত হয়ে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন এবং পরে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে একটি গোয়েন্দা সংস্থার অনুসন্ধান প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২২ জুন আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী ট্রলারে করে আশুলিয়া বাজার এলাকায় আসার সময় পুলিশি অভিযানের মুখে পড়েন এবং এ সময় কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দেন।

ঘটনার সময় নদীতে কেউ নিখোঁজ হয়েছিল কি না কিংবা তল্লাশি অভিযান পরিচালিত হয়েছিল কি না— সে বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া মনে করেন, ঘটনাটি নিয়ে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। তার মতে, কারা নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিল, কেউ নিখোঁজ হয়েছিল কি না এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা কী ছিল— এসব বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন সম্ভব হবে।

ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পরও তুরাগপাড়ের এই ঘটনাকে ঘিরে নানা প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। পুলিশের বক্তব্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি এবং স্বজনদের অভিজ্ঞতার মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা আরও গভীর হয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪