| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন পার্টনারশিপ ফোরামের বৈঠক

reporter
  • আপডেট টাইম: জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ ইং | ১১:১৩:৫৫:পূর্বাহ্ন  |  ৮৫৪৬২২ বার পঠিত
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বাংলাদেশ-চীন পার্টনারশিপ ফোরামের বৈঠক

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ-চীন পার্টনারশিপ ফোরামের একটি প্রতিনিধিদল। বৈঠকটি গত বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধিদলে ছিলেন চীনের শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাবিদ, বিনিয়োগকারী এবং শিল্পখাতের নেতারা বিশেষ করে বায়োমেডিকেল, অবকাঠামো, ডিজিটাল ও আইন খাতের প্রতিনিধিরা।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, বৈঠকে সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েস্ট চায়না স্কুল অব মেডিসিনের পরিচালক ও খ্যাতনামা বায়োমেডিক্যাল বিজ্ঞানী শিন-ইউয়ান ফু ড. ইউনূসের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেছেন। তিনি বাংলাদেশি শিক্ষাবিদদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অবদান রাখতে চান।

ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেকনোলজির বোর্ডের সিনিয়র উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু জিলং ওং এবং সিঙ্গাপুর ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউকিং ইয়াও বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। প্রতিষ্ঠানটি ইতিমধ্যে ২২টিরও বেশি দেশে টিকা রপ্তানি করেছে এবং যুক্তরাজ্য ও ইন্দোনেশিয়ায় সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠা করেছে।

প্রতিনিধিদল আরও ছিলেন,সিঙ্গাপুরের রোবোটিক্স সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জিনসং ওয়াং, ফোর্ডাল ল’ ফার্মের ম্যানেজমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ইউয়ান ফেং, বেইজিং উটং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের এমডি লি রান, চায়না কনস্ট্রাকশন ও ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট নেতারা।

বৈঠকে বাংলাদেশের তরুণদের প্রতিভা ও সম্ভাবনার প্রশংসা করেন অতিথিরা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ডিজিটালাইজেশন বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় তুলে ধরেন।

ড. ইউনূস স্মরণ করেন চীনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, যা মাইক্রোক্রেডিট আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল। তিনি বলেন, চীনের প্রত্যন্ত গ্রামে মানুষের জীবন বদলাচ্ছে এবং চীনা সরকার এসব নীতির অনুপ্রেরণায় কর্মসূচি চালাচ্ছে। গত বছরের মার্চে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও তার বই পড়ার কথা বলা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের মুহূর্ত ছিল।

প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও বাংলাদেশ-চীনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। বৈঠকে স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

ড. ইউনূস স্বাস্থ্যখাতকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে চিকিৎসক ও রোগী কার্যকরভাবে যুক্ত হতে পারবে, চিকিৎসা ইতিহাস সংরক্ষণ হবে এবং সহজে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া যাবে।

ফার্মাসিউটিক্যাল খাতেও সামাজিক ব্যবসার গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা এমন ওষুধ কোম্পানি চাই যা লাভের চেয়ে মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেবে। কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে পেটেন্টমুক্ত টিকার দাবি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ন্যায্যতা চাইছিলাম, দান নয়।

ড. ইউনূস আরও জানান, উত্তরাঞ্চলে ‘হেলথ সিটি’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, গবেষণা কেন্দ্র, টিকা উৎপাদন কেন্দ্র, ওষুধ শিল্প ও মেডিকেল যন্ত্রপাতি হাব থাকবে। ভারত, নেপাল ও ভুটানের মানুষও এখানে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবে।

বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সরকারের জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪