সিনিয়র রিপোর্টার: চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের রায়কে কেন্দ্র করে বন্দর এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে অফিস চলাকালে মিছিল, মহড়া ও আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় এনসিটি সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে কিছু কর্মকর্তা ভবন চত্বরে মিছিল করেন এবং দলবদ্ধভাবে মহড়া দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অধিকৃত কর্মচারী আচরণ বিধিমালা-১৯৭৯ ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা-১৯৯১ অনুযায়ী এ ধরনের কর্মকাণ্ড শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভবিষ্যতে পুনরায় এমন ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে হস্তান্তরের উদ্যোগে শ্রমিক ও কর্মকর্তা মহলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বন্দর শ্রমিকরা আগামী ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার ও রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
শ্রমিক সংগঠন চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, দেশে পর্যাপ্ত সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির হাতে দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তারা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান এবং না মানলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন।
শ্রমিকরা আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় বন্দরের দিকে কালো পতাকা মিছিল করবেন বলে জানানো হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি