| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

যাত্রাশিল্পের পথিকৃৎ মিলন কান্তি দে মারা গেছেন

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০৭, ২০২৬ ইং | ২২:০০:৪৫:অপরাহ্ন  |  ৫৪২৩২৯ বার পঠিত
যাত্রাশিল্পের পথিকৃৎ মিলন কান্তি দে মারা গেছেন
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক: যাত্রা অভিনেতা, পরিচালক, লেখক ও সাংস্কৃতিককর্মী মিলন কান্তি দে মারা গেছেন। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কেলিশহরে নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

মিলন কান্তি দের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গবেষক আমিনুর রহমান সুলতান। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা অসুস্থতায় ভুগছিলেন এই যাত্রাশিল্পী। শনিবার সকাল থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে বিকেলে নিজ বাড়িতেই তিনি মারা যান। রাতেই কেলিশহরে পারিবারিক শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

মিলন কান্তি দের মৃত্যুতে দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী ও সংস্কৃতিকর্মীরা তাঁকে যাত্রাশিল্পের একজন পথিকৃৎ হিসেবে স্মরণ করছেন।

১৯৪৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ছনহরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মিলন কান্তি দে। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালার সংস্কার ও আধুনিকীকরণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যাত্রা থিয়েটারকে সময়োপযোগী করে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘদিন তিনি যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

অভিনয় জীবনে মিলন কান্তি দে ১২০টিরও বেশি যাত্রা প্রযোজনা পরিচালনা করেছেন এবং ১৫১টির বেশি প্রযোজনায় অভিনয় করেছেন। ১৯৬৬ সালে অভিনয়ে তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। ১৯৯৩ সালে তিনি ‘দেশ অপেরা’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা যাত্রাশিল্পে নতুন ধারার সূচনা করে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি যাত্রা প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন।

নাট্যাঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। আজীবন যাত্রাশিল্পে অবদানের জন্য ২০২৩ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি থেকে যাত্রা শিল্পী সম্মাননাও পান তিনি।

২০২৪ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘আমি যে এক যাত্রাওয়ালা’, যেখানে যাত্রাশিল্পে তাঁর দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে। একই বছর একুশে বইমেলায় বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর রচনাসংকলন ‘নির্বাচিত যাত্রাপালা’।

এ ছাড়া তাঁর আরেকটি গ্রন্থ ‘যাত্রা শিল্পের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নন্দিত নায়িকারা’ প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে, যা নবান্ন প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হওয়ার কথা।

উল্লেখ্য, মৃত্যুর মাত্র এক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসন্ন গ্রন্থটির প্রচ্ছদের ছবি প্রকাশ করে মিলন কান্তি দে লিখেছিলেন, ‘এটাই হতে পারে আমার শেষ বই। জীবনের শেষ মুহূর্ত কাটাচ্ছি, সবাই প্রার্থনা করবেন।’ তাঁর এই লেখাটি এখন ভক্ত ও সহকর্মীদের কাছে হয়ে উঠেছে আবেগঘন স্মৃতি।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪