কুষ্টিয়া প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক বদলিকে ঘিরে পক্ষে-বিপক্ষে উত্তেজনার মধ্যেই দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকালে কুষ্টিয়া জেলা স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
এর আগে, জেলা প্রশাসক মো. ইকবাল হোসেনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার প্রজ্ঞাপন জারি হলে তাকে বহাল রাখার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ‘জুলাই যোদ্ধা ও কুষ্টিয়ার সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে শত শত মানুষ জড়ো হন। উপস্থিতদের প্রায় অর্ধেকই নারী। তারা বিভিন্ন স্লোগানে ডিসিকে বহাল রাখার দাবি জানান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে আন্দোলনকারীরা একটি মিছিল নিয়ে শহরের মজমপুর রেলগেট প্রদক্ষিণ করে আবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ফিরে আসেন। সেখানে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকে। এ সময় সেনাসদস্যদের একটি গাড়ি ও পুলিশের টহল দেখা যায়।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, প্রজ্ঞাপন বাতিল করে ডিসিকে বহাল না রাখা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
জামায়াত, ইসলামী ছাত্রশিবির ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন সাবেক নেতা ইকবাল হোসেনকে ‘মানবতার প্রশাসক’ আখ্যা দিয়ে তার প্রত্যাহার আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। তবে, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সুজা উদ্দীন জোয়ার্দ্দার বলেন, এ কর্মসূচি দলীয় নয়। মানুষের ভালোবাসা থেকেই অনেকে গেছেন। দলীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
অন্যদিকে বিএনপি ও যুবদলের নেতারা বলেন, জেলা প্রশাসকের বদলি সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। এ নিয়ে ‘মব’ সৃষ্টি করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়।
রোববার (১ মার্চ) কুষ্টিয়াসহ দেশের পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এরপর থেকেই এ জেলায় আলোচনা-সমালোচনা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান বলেন, ‘আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম কুষ্টিয়ার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। মো. ইকবাল হোসেন তার নতুন কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বলে জানতে পেরেছি।
এদিকে, প্রশাসনিক নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম দায়িত্ব গ্রহণের পর জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে বলে বলে জানা গেছে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু