আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। ইরানের প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে পৌঁছানোর পর এবং মার্কিন প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার প্রেক্ষাপটে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান এমন একটি প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল দাবিগুলো পূরণ করতে পারে। তিনি বলেন, ইরান একটি প্রস্তাব দিচ্ছে, এখন দেখার বিষয় সেটি কেমন হয়। তবে প্রস্তাবের বিস্তারিত বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও উল্লেখ করেন।
সূত্র মতে, ইসলামাবাদকে ঘিরেই উভয় পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাকিস্তান এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে বলে কূটনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ওমান ও রাশিয়াসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গেও ইরানের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরানের বিষয়ে কঠোর অবস্থান ধরে রেখেছেন। তিনি বারবার বলেছেন, যেকোনো চুক্তির ক্ষেত্রে ইরানকে অবশ্যই তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কর্মসূচি পরিত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শর্তগুলোর একটি। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচলে কোনো ধরনের বিঘ্ন যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, ইরানের ক্ষমতার কাঠামোর ভেতরে মতবিরোধ রয়েছে, যা আলোচনার গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। শুক্রবার এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে যারা ক্ষমতায় আছেন, তাদের সঙ্গেই আমরা কথা বলছি, তবে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেননি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সম্ভাব্য প্রস্তাব যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শর্তগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তাহলে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি সমঝোতার পথ তৈরি হতে পারে। তবে উভয় পক্ষের পারস্পরিক অবিশ্বাস ও আঞ্চলিক জটিলতা কাটিয়ে কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।