| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধে কতদিন টিকতে পারবে ইসরায়েল?

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ০৪, ২০২৬ ইং | ২০:৫৪:৩০:অপরাহ্ন  |  ৩৫৮৯৫৬ বার পঠিত
ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধে কতদিন টিকতে পারবে ইসরায়েল?
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা। ওয়াশিংটন বলছে, তাদের সামরিক সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদি লড়াই চালানোর মতো যথেষ্ট। তবে বিশ্লেষকদের মতে, টানা যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ ইসরায়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

গত শনিবার ইসরায়েলে হামলা শুরুর পর থেকে তেল আবিব ও হাইফাসহ বিভিন্ন শহরে বারবার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার সতর্কতা জারি হয়েছে। হাজার হাজার রিজার্ভ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং জরুরি সেবার ওপর চাপ বেড়েছে। জনমত জরিপ ও স্থানীয় সাক্ষাৎকারে দেখা যাচ্ছে, শুরুতে যুদ্ধের পক্ষে প্রবল জনসমর্থন রয়েছে। বহু ইসরায়েলি মনে করেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই তাদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রকাশ্যে বলেছেন, দীর্ঘ লড়াই হলেও যুক্তরাষ্ট্র পাশে থাকবে।

তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মূল প্রশ্ন হচ্ছে,বর্তমান তীব্রতায় ইসরায়েল কতদিন যুদ্ধ চালাতে পারবে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হামজা আত্তার বলেন, যুদ্ধের প্রথম তিন দিনেই ইরান ২০০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ইসরায়েলকে প্রতিরোধক রকেট ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা মজুদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

ইসরায়েলের তিন স্তরের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, স্বল্পপাল্লার রকেট ঠেকাতে লোহার গম্বুজ, মাঝারি পাল্লার হুমকির জন্য ডেভিডের স্লিং এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে অ্যারো ৩ এবং অ্যারো-২। তবে প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের সুনির্দিষ্ট মজুদ প্রকাশ করা হয় না। আগের ১২ দিনের সংঘাতে মজুদ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ইসরায়েলকে প্রতিরোধক ব্যবহারে রেশনিং করতে হতে পারে, ফলে সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো অগ্রাধিকার পাবে এবং বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।

অর্থনৈতিক দিক থেকেও চাপ বাড়ছে। ২০২৪ সালে গাজা ও লেবানন অভিযানে ইসরায়েলের ব্যয় ছিল প্রায় ৩১ বিলিয়ন ডলার, আর ২০২৫ সালের প্রাথমিক হিসাবে যুদ্ধব্যয় ৫৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। টানা সামরিক মোতায়েন, গোলাবারুদ খরচ এবং রিজার্ভ বাহিনী দীর্ঘসময় সক্রিয় রাখার কারণে বাজেট ঘাটতি বেড়েছে। তিনটি প্রধান আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা ইতোমধ্যে ইসরায়েলের সার্বভৌম ঋণমান কমিয়েছে।

তবে রাজনৈতিক অর্থনীতিবিদদের মতে, শুধু অর্থনৈতিক সংকট যুদ্ধ থামাতে যথেষ্ট নাও হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র যদি উন্নত অস্ত্র ও প্রযুক্তি সরবরাহ অব্যাহত রাখে, তাহলে সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখা সম্ভব হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ইসরায়েলে যুদ্ধের পক্ষে সামাজিক সমর্থন এখনো দৃঢ় থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সামরিক সক্ষমতা, প্রতিরক্ষা মজুদ ও অর্থনৈতিক চাপ—এই তিন উপাদানই নির্ধারণ করবে সংঘাত কতদিন টিকবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের বিস্তৃতি ও আন্তর্জাতিক সমর্থনের মাত্রাও শেষ পর্যন্ত বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।আল জাজিরা 

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪