আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল শনিবার ভোরে ইরানের বিরুদ্ধে বোমা হামলা চালানোর পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, এই যুদ্ধে তার একমাত্র উদ্দেশ্য ‘ইরানি জনগণের স্বাধীনতা’ নিশ্চিত করা। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আড়ালেই ট্রাম্প তেহরানের শাসন ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়াকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে রেখেছেন।
ওয়াশিংটনভিত্তিক স্টিমসন সেন্টার-এর জ্যেষ্ঠ ফেলো কেলি গ্রিকো বলেন, স্থলবাহিনী ছাড়াই এমন রাজনৈতিক পরিবর্তন আনা প্রায় অসম্ভব। তাঁর মতে, শুধুমাত্র বিমান হামলার ওপর নির্ভর করে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা সীমিত এবং অপ্রতুল হতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ট্রাম্প প্রথম দফার হামলার পর ইরানি জনগণকে বলেছিলেন, আমরা শেষ করলে তোমরা তোমাদের সরকার নিজেরাই দখল করবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবে ইরানের অভ্যন্তরীণ শক্তিশালী বাহিনী এখনো কার্যকরভাবে বিদ্রোহী কার্যক্রম চালাতে সক্ষম নয়।
স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা উন্মুক্ত থাকলেও বিশ্লেষকরা এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ এবং ট্রাম্পের ‘দ্রুত ও সীমিত অভিযান’ নীতির পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন। সাম্প্রতিক রয়টার্স জরিপে দেখা গেছে, মাত্র এক-চতুর্থাংশ মার্কিন নাগরিক এই যুদ্ধে সমর্থন জানিয়েছেন, যেখানে ২০০৩ সালে ইরাক আগ্রাসনের সময় সমর্থন ছিল ৫৫ শতাংশের বেশি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হ্যাজেট বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক ও ড্রোন কর্মসূচি এবং নৌ সক্ষমতা ধ্বংস করাই মূল লক্ষ্য; এটি ‘চিরস্থায়ী যুদ্ধ’ নয়। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশাসনের বার্তা অসংগতিপূর্ণ এবং লক্ষ্য স্পষ্ট নয়।
হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খা ও শীর্ষ কর্মকর্তারা নিহত হওয়ার দাবি করা হলেও সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ইরান, উপসাগরীয় দেশ, মার্কিন স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠী ও লেবাননের হেজবুনও সংঘাতে যুক্ত হয়েছে।
ট্রাম্প যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ বা তারও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেছেন, ইরানের শাসনব্যবস্থা পতন কেবল সময়ের ব্যাপার। তবে অন্য বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিমান শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা যুদ্ধকে দীর্ঘস্থায়ী এবং অস্থিতিশীল করে তুলছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি সূত্র: আল জাজিরা