| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে আজ

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ০২, ২০২৬ ইং | ১০:০৬:৩৩:পূর্বাহ্ন  |  ৩৭৭২০৯ বার পঠিত
অনলাইন ক্লাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে আজ

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। সিটি করপোরেশন এলাকার স্কুল-কলেজগুলোতে সশরীরে ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা চালুর বিষয়ে আজই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, একটি “ব্লেন্ডেড” বা মিশ্র পদ্ধতির প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে, যেখানে সপ্তাহে ছয় দিনের মধ্যে তিন দিন অনলাইনে এবং বাকি তিন দিন সরাসরি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একদিন অনলাইন, পরদিন অফলাইন এই ধারাবাহিকতায় ক্লাস পরিচালনা করা হবে। তবে অনলাইন ক্লাস হলেও শিক্ষকদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকেই পাঠদান করতে হবে। ব্যবহারিক বা প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসগুলো সশরীরেই নেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাবটি উপস্থাপনের কথা রয়েছে। বৈঠকে আলোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শক্রমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা হতে পারে বলে জানা গেছে।

শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন সম্প্রতি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির অনিশ্চয়তা বিবেচনায় নিয়েই এই মিশ্র পদ্ধতির চিন্তা করা হচ্ছে। তিনি জানান, রমজানের ছুটি, বিভিন্ন কর্মসূচি ও আন্দোলনের কারণে নির্ধারিত অনেক ক্লাস হয়নি। সেই ঘাটতি পুষিয়ে নিতে ইতোমধ্যে শনিবারসহ সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস চালু করা হয়েছে।

একটি জরিপের তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রায় ৫৫ শতাংশ অংশীজন অনলাইন ক্লাসের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীদের সামাজিক বিকাশের কথা বিবেচনায় রেখে পুরোপুরি অনলাইনে না গিয়ে এই সমন্বিত পদ্ধতিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে সরকারের এই উদ্যোগকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্কও। বাংলাদেশ ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল পেরেন্টস ফোরাম তীব্র আপত্তি জানিয়েছে প্রস্তাবিত ৩+৩ মডেলের বিরুদ্ধে। সংগঠনটির মতে, সপ্তাহে তিন দিন অনলাইন ক্লাস চালু হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে  বিশেষ করে যাদের সামনে ও-লেভেল, এ-লেভেল বা সেশন ফাইনাল পরীক্ষা।

অভিভাবকদের অভিজ্ঞতা বলছে, করোনাকালে অনলাইন ক্লাস তেমন কার্যকর হয়নি। এতে শিক্ষার মান ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি উচ্চগতির ইন্টারনেট ও প্রয়োজনীয় ডিভাইসের অতিরিক্ত খরচ বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন চাপ তৈরি করবে। কর্মজীবী অভিভাবকদের পক্ষে সন্তানদের নিয়মিত তদারকি করাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।

বিকল্প প্রস্তাব হিসেবে অভিভাবক ফোরাম বলছে, সপ্তাহে চার দিন সশরীরে ক্লাস চালু রেখে বাকি তিন দিন পুরোপুরি বন্ধ রাখা যেতে পারে। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি যাতায়াত খরচও কমবে। এছাড়া স্কুলের সময়সূচি কমানো, শ্রেণিকক্ষে এসির ব্যবহার সীমিত করা এবং প্রাকৃতিক আলো-বাতাস নিশ্চিত করার মতো পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছে তারা।

এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। অনেকেই মনে করছেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪