| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শারীরিক সম্পর্কের পর টাকা নিয়ে ঝগড়া, খুনের পর ডলির লাশ রাখা হয় ট্রাঙ্কে

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ০৫, ২০২৬ ইং | ১৯:৪৩:৪০:অপরাহ্ন  |  ৩৫০৬৭৪ বার পঠিত
শারীরিক সম্পর্কের পর টাকা নিয়ে ঝগড়া, খুনের পর ডলির লাশ রাখা হয় ট্রাঙ্কে

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের শ্রীবরদীতে তালাবদ্ধ একটি কাপড়ের ট্রাঙ্ক (স্টিল বক্স) থেকে নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটি বলছে, অনৈতিক কাজের টাকার দর কষাকষি নিয়েই খুন করা হয় ওই নারীকে। খুনের পর মরদেহটি রাখা হয় ট্রাঙ্কে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআই পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত। এ ঘটনায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, নিয়ামুর নাহিদ (২৬) ও তার স্ত্রী রিক্তা মনিকে (২৬)। তারা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী।

অন্যদিকে হত্যার শিকার ওই নারীর নাম ডলি আক্তার। তিনি নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জের বাসিন্দা।

মূলত ট্রাঙ্কটি বহন করা পিকআপভ্যান চালক মো. আশরাফ আলীকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত শুক্রবার ভোরে নাহিদ ও মনি দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা ডলি আক্তারকে হত্যার কথা স্বীকার করে। সর্বশেষ শনিবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

পিবিআই জানায়, একটি টেক্সটাইল মিলে চাকরির সুবাদে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার নিয়ামুর নাহিদ ও তার স্ত্রী রিক্তা মনি গাজীপুরের শ্রীপুর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে থাকেন। গত ৩০ এপ্রিল রাতে স্ত্রী বাড়িতে না থাকার সুযোগে অনৈতিক কাজের জন্য ডলি আক্তারকে টাকার বিনিময়ে নিয়ামুর নাহিদ তার ভাড়া বাসায় নিয়ে যান। পরে টাকা কম দেয়ায় তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হলে ডলি আক্তার উত্তেজিত হয়ে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে ঘাতক নিয়ামুর নাহিদ তাকে মুখ চেপে ধরেন। এরপরও ডলি শান্ত না হলে গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে ধরলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

এরপর সেদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে নাহিদ তার স্ত্রীকে অফিস থেকে নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। এ সময় তিনি স্ত্রীকে জানান, তার সাবেক স্ত্রী ভাড়া বাড়িতে এসে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করলে তাকে তিনি গলায় গামছা পেঁচিয়ে মেরে ফেলেছেন। সেই মরদেহ গোপন করতে স্ত্রীর সাহায্য চান নাহিদ। স্ত্রী রিক্তা মনি স্বামীর অপরাধকে ঢাকতে দু’জনে পরামর্শ করে স্থানীয় বাজার থেকে একটি বড় ট্রাঙ্ক কেনেন। এরপর ডলির মরদেহ তোষকে পেঁচিয়ে ওই ট্রাঙ্কে ভরে রাখেন। ভালুকা এলাকাটি জনবহুল হওয়ায় সেখানে মরদেহ গোপন করতে অসুবিধা হবে ভেবে নিজ বাড়ি শেরপুরের শ্রীবরদী এলাকার ফাঁকা স্থানে ফেলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

গ্রেপ্তার দুজনের বরাতে পুলিশ সুপার পঙ্কজ দত্ত জানান, গত ১ এপ্রিল ভোরে অন্য একটি পরিবারের সাংসারিক মালামাল পিকআপভ্যানে শেরপুরের শ্রীবরদী আনার কথা জানতে পারেন এক ট্রাক দালালের কাছে। পরে ওই দালালের মাধ্যমে পিকআপভ্যানে একটি বড় ট্রাঙ্ক শ্রীবরদীতে আনার জন্য অনুরোধ করলে চালক ট্রাঙ্কসহ নাহিদকে নিয়ে শেরপুরের শ্রীবরদী যান। পিকআপভ্যানটি শ্রীবরদী সরকারি কলেজের পাশ দিয়ে কর্ণজোড়া যাওয়ার সময় সড়কের নয়াপাড়া ঢালীবাড়ী তিন রাস্তার মোড়ে এলে সেখানে ট্রাঙ্কটি ফেলে রেখে পালিয়ে যান তারা।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪