| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চীনের প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে বৈঠকে যাচ্ছেন তাইওয়ানের বিরোধী নেতা

reporter
  • আপডেট টাইম: এপ্রিল ০৭, ২০২৬ ইং | ১৮:৩১:৩৯:অপরাহ্ন  |  ৯১৭৮৩ বার পঠিত
চীনের প্রেসিডেন্ট শির সঙ্গে বৈঠকে যাচ্ছেন তাইওয়ানের বিরোধী নেতা
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তাইওয়ানের বিরোধী দল কুওমিনতাং (কেএমটি)-এর চেয়ারপারসন চেং লি-উন চলতি সপ্তাহে বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দলের আসন্ন নির্বাচনী সম্ভাবনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ছয় দিনের সফরে মঙ্গলবার সাংহাই পৌঁছেছেন চেং। সফরের আগে তিনি বলেন, তাইওয়ান ও চীন যুদ্ধের জন্য নিয়ত নির্ধারিত নয়, এবং তাদের সামরিক সংঘাতের কিনারায় থাকারও প্রয়োজন নেই। সফরের অংশ হিসেবে তিনি নানজিংয়ে আধুনিক চীনের জনক হিসেবে পরিচিত সান ইয়াত-সেনের সমাধি পরিদর্শন করবেন এবং পরে বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

২০১৫ সালে সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত শি-মা ইং-জিউ বৈঠকের পর এটি হবে এ ধরনের উচ্চপর্যায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ। যদিও ২০২৪ সালে মা ব্যক্তিগত সফরে চীন গিয়ে শির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন।

বিশ্লেষকদের মতে, গত এক দশকে তাইওয়ানের রাজনৈতিক বাস্তবতা উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে। জাতীয়তাবাদী মনোভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় কেএমটির জনপ্রিয়তা কমেছে, এবং দলটি ২০১৬, ২০২০ ও ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হয়েছে।

কেএমটি দীর্ঘদিন ধরে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের পক্ষে অবস্থান নিয়ে এলেও ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি (ডিপিপি) ভিন্ন কৌশল গ্রহণ করেছে—তারা আন্তর্জাতিক পরিসরে তাইওয়ানের উপস্থিতি জোরদার ও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিয়েছে।

চীনও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাইওয়ান প্রণালী অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা বাড়িয়েছে। ২০২২ সালের পর থেকে একাধিকবার সামরিক মহড়া চালানো হয়েছে, যার মধ্যে দ্বীপটিকে ঘিরে অবরোধের অনুশীলনও রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক সংঘাত ইউক্রেন, গাজা ও ইরান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাইওয়ানের জনগণের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা সহায়তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ধারণা কিছু ভোটারের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।

তবে চেং-এর এই সফর নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। ডিপিপি এটিকে বেইজিংয়ের জন্য প্রচারমূলক সাফল্য’ হিসেবে দেখছে। এমনকি কেএমটির ভেতরেও আশঙ্কা রয়েছে, অতিরিক্ত চীনঘেঁষা অবস্থান ভোটারদের দূরে সরিয়ে দিতে পারে।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৬ শতাংশের বেশি মানুষ মনে করেন, এই বৈঠক কেএমটির নির্বাচনী সম্ভাবনার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে বেইজিংয়ের অভ্যর্থনা এবং বৈঠকের প্রতিচ্ছবির ওপর। ইতিবাচক বার্তা দিতে পারলে চেং নিজেকে দক্ষ কূটনীতিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন, আর ব্যর্থ হলে তা তার রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল করে দিতে পারে। আল জাজিরা

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪