ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক: লেবাননে আবারও ভয়াবহ তাণ্ডব চালিয়েছে ইসরায়েল। মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধানে রাজধানী বৈরুতসহ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে অন্তত ১০০টি বিমান হামলা চালানো হয়। এই হামলায় নারী ও শিশুসহ ২৫৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন এক হাজারেরও বেশি। এই ঘটনায় অস্ট্রেলিয়া ও স্পেন লেবাননেও যুদ্ধবিরতি চেয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি অ্যালবানিজ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যেসব যুদ্ধবিরতি হয়েছে, তা লেবাননেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। লেবাননে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে অনেক অস্ট্রেলিয়ান উদ্বিগ্ন। ব্রিসবেনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “এই সংকট শুধু স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমান যুদ্ধবিরতি আরও বিস্তৃত করে লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা জরুরি
এদিকে, লেবাননে সম্প্রতি চালানো ভয়াবহ ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে মানবজীবন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি চরম অবজ্ঞার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি লেবাননকেও চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে উল্লেখ করেছেন, অভিযান শুরু হওয়ার পর লেবাননের ওপর নেতানিয়াহু আজ সবচেয়ে জঘন্য হামলাটি চালিয়েছেন। মানবজীবন ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তার এই অবজ্ঞা একেবারেই অসহ্য। লেবাননকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে পেদ্রো সানচেজ আরও বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সকলকে এই নগ্ন আইনের লঙ্ঘন নিন্দা জানাতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে ইসরায়েলের সঙ্গে থাকা সহযোগিতামূলক চুক্তি পুনর্বিবেচনারও আহ্বান জানাচ্ছি।
ইসরায়েলি হামলার এই ঘটনায় নারী ও শিশুসহ সাধারণ জনগণ সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় উদ্বিগ্ন এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার জন্য তৎপর হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়া ও স্পেনের পক্ষ থেকে লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি চাওয়া আন্তর্জাতিক নীতি ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নাগরিকদের প্রাণহানি রোধ ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর প্রচেষ্টা হবে।
ক্যাপশন: রিপোর্টার্স২৪/এম এইচ