আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ন্যাটো জোটের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি এবং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক বিরোধের প্রেক্ষাপটে ইউরোপ থেকে কিছু মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ন্যাটো মিত্রদের প্রতি অসন্তোষ থেকেই এমন ভাবনা সামনে এসেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সীমিত ভূমিকা এবং গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ পরিকল্পনায় সমর্থন না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ রয়েছেন ট্রাম্প।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এখনো পেন্টাগনকে কোনো আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে ইউরোপ থেকে সেনা সরানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনাই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পর্ক কতটা তলানিতে নেমেছে, তা স্পষ্ট করছে।
বর্তমানে ইউরোপে ৮০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে জার্মানিতে ৩০ হাজারের বেশি, পাশাপাশি ইতালি, যুক্তরাজ্য ও স্পেনেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা অবস্থান করছে। সম্ভাব্য প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে কোন দেশগুলো প্রভাবিত হতে পারে বা কতসংখ্যক সেনা সরানো হবে,সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুট সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করলেও তা ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্কের উন্নতিতে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ন্যাটো প্রতিষ্ঠার (১৯৪৯) পর বর্তমান পরিস্থিতিকে সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হোয়াইট হাউস আগেও ইঙ্গিত দিয়েছে, ট্রাম্প পুরোপুরি ন্যাটো জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করেছেন। ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহার করা হলে আনুষ্ঠানিকভাবে জোট ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র তার নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনতে পারবে।
গত জানুয়ারিতে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিয়ে ট্রাম্প নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেন। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি নিয়ে ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তার অসন্তোষ আরও বেড়েছে।
এছাড়া ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করতে ন্যাটো মিত্রদের সক্রিয় ভূমিকা না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন তিনি। যদিও ন্যাটোর কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানায়নি কখন বা কীভাবে প্রণালী নিরাপত্তা মিশন শুরু করতে চায়।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসনের ভেতরে ইউরোপে অবস্থানরত সেনাদের এমন দেশগুলো থেকে সরিয়ে নেওয়ার কথাও আলোচনা হয়েছে, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ইরান যুদ্ধের সমালোচনা করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প মূলত সেনাদের যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনার দিকেই বেশি আগ্রহী।
বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ এবং ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি