রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: কারিগরি শিক্ষার দুর্বল অবকাঠামো ও বাস্তব সংকট নিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিযোগের জবাবে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, সামনে পরীক্ষা। তাতে তুমিও ফেল, ছয় মাস পর আমিও ফেল। কারও বাঁচার উপায় নেই।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে তিনি শিক্ষার্থীদের সরাসরি সমস্যার কথা শোনেন এবং গতানুগতিক বক্তব্য না দিয়ে বাস্তব চিত্র জানার চেষ্টা করেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, নিয়মিত ক্লাস হয় না, হাতে-কলমে শেখার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই, ল্যাবের যন্ত্রপাতি পুরোনো এবং দক্ষ শিক্ষকেরও অভাব রয়েছে। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী নিহাল উদ্দীন সরকার বলেন, “আমরা ক্লাসে কিছুই বুঝতে পারি না, প্র্যাকটিক্যাল কাজও ঠিকমতো হয় না।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক মাশফিকুর রহমান জানান, ১৯৬৩ সালে নির্মিত ভবনে এখনো ক্লাস ও ল্যাব কার্যক্রম চলছে। আধুনিক মেশিনারিজ না থাকায় কার্যকরভাবে পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না।
অন্য এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, অষ্টম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপে পাঠানোর কথা থাকলেও তা ঠিকমতো হয় না, এবং ভালো প্রতিষ্ঠানে সুযোগও সীমিত।
এ প্রসঙ্গে পলিটেকনিকের অধ্যক্ষ জানান, শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের নিতে আগ্রহ দেখায় না। তবে মন্ত্রী বলেন, সরকারের সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চুক্তি অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের অবশ্যই সুযোগ দিতে হবে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
কারিগরি শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, সরকার শিক্ষায় প্রয়োজনীয় অর্থ দিতে প্রস্তুত, কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন ও ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
এ সময় একজন শিক্ষক জানান, পলিটেকনিকের প্রায় ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। এছাড়া ১৯ জন শিক্ষক সাত বছর ধরে চাকরি করলেও বেতন পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে মন্ত্রী তাদের আত্তীকরণ ও পুনরায় মূল্যায়নের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম